চট্টগ্রাম, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি

জালিয়াতিতে প্রাণ গ্রুপ, চট্টগ্রামে মামলা

সিটিজি টাইমস ডেস্ক প্রকাশ: ১২ জুন, ২০১৯ ৬:৪০ : অপরাহ্ণ

রাজস্ব জালিয়াতি, ভেজাল পণ্য বিপণনের কারণে এতোদিন পত্রিকার শিরোনাম হওয়া দেশীয় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এবার আমদানিতেও জালিয়াতির খবর পাওয়া গেছে। প্লাস্টিক দানা ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের সিমেন্ট আমদানির চেষ্টা করেছিল এই কোম্পানিটি।

এদিকে, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির অভিযোগে প্রাণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১২ জুন) চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী শুল্ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান সজিব বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু বলেন, ‘শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে প্রাণ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। এটি তদন্তাধীন বিষয়। যদি তদন্তে মানি লন্ডারিং কিংবা এ সংক্রান্ত ফৌজদারি কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে থানায় নিয়মিত মামলা হবে।’

উল্লেখ্য, প্লাস্টিক দানার শুল্ককর ৩২ শতাংশ, আর সিমেন্টের হার ৯১ শতাংশ। আমদানিকৃত প্লাস্টিকের দানার বিপরীতে প্রাণ শুল্ক দিয়েছিল ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সিমেন্টের হিসেবে আমদানি করতে শুল্ক পড়তো প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফাঁকি দিতেই এই জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের নামে ৩০টি কন্টেইনারের চালান আসে ২৬ মে। আমদানিকারক ওইদিনই চালান খালাসের জন্য নথিপত্র জমা দেয়। চালানে পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার ডলার মূল্যের ৫১০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক দানা আনার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঈদের ছুটির কারণে বন্ধ থাকায় ৬ জুন রাতে তারা কন্টেইনার খালাসের চেষ্টা করে। এ সময় দু’টি কন্টেইনার খুলে সিমেন্টের বস্তা দেখা যায়। পরে কন্টেইনারগুলো লক করে খালাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে সোমবার ও মঙ্গলবার দুইদিনে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, চালানটিতে সৌদি-আরবের জেবেল আলী ব্র্যান্ডের সিমেন্টের বস্তা। প্রতিটি বস্তায় আছে ৫০ কেজি করে সিমেন্ট। একেকটি কন্টেইনারে এসেছে ৩৪০টি করে বস্তা। ৩০টি কন্টেইনারে ১০ হাজার ২৫০টি বস্তায় মোট সিমেন্ট এসেছে ৫১০ মেট্রিক টন। প্লাস্টিক দানার শুল্ককর ৩২ শতাংশ। আর সিমেন্টের শুল্ককর ৯১ শতাংশ।

চালানটির খালাস স্থগিত করা হয়েছে। আর সিমেন্টের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস।

কন্টেইনার জব্দ করার কথা স্বীকার করেছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ম্যানেজার (কমিউনিকেশন) তৌহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, সৌদি কোম্পানি আমাদের সঙ্গে জালিয়াতি করেছে। আমরা এজিন (প্লাস্টিক দানা) আমদানির জন্য কোম্পানিকে অর্ডার করেছিলাম। কিন্তু তারা জালিয়াতি করে সিমেন্ট পাঠিয়েছে। এতে আমাদের কোনো দোষ নেই।

ভেজালের কারণে পুরো রমজান জুড়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। কোম্পানিটির দু’টি পণ্যের লাইসেন্স বাতিল (প্রাণ গুঁড়া হলুদ ও প্রাণ লাচ্ছা সেমাই) করেছে বিএসটিআই। একই সঙ্গে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ঘির মান যথাযথ না হওয়ায় লাইসেন্স স্থগিত ঘোষণা করেছে।

Print Friendly and PDF

———