চট্টগ্রাম, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ , ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বর্ষায় কয়েকশ পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়ার আশংকা

মিরসরাইয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ড্রেন দখলের চেষ্টার অভিযোগ

মিরসরাই প্রতিনিধি প্রকাশ: ১০ মে, ২০১৯ ১১:২১ : অপরাহ্ণ

মিরসরাইয়েমিরসরাইয়ে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওয়াকফ এস্টেটের ড্রেন দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ড্রেনটি দখল হয়ে গেলে এলাকার বাসিন্দারা বর্ষা মৌসুমে পানিবন্ধী হয়ে পড়বে।

উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মস্তাননগর এলাকায় অবস্থিত কনকর্ড প্রগতি কন্সোটিয়াম লিমিটেড (সিপিসিএল) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক শাহ কালা ওয়াকফ এস্টেটের ড্রেন দখল করে স্থায়ীভাবে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা চালালে তা স্থানীয়দের বাধার মুখে বন্ধ করে দেয়।

তবে স্থানীয়রা আশংকা করছেন যেকোন মুহুর্তে প্রতিষ্ঠানটি জোরপূর্বক ড্রেন দখলে নিয়ে স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ করে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মস্তাননগর এলাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ড প্রগতি কন্সোটিয়াম লিমিটেড (সিপিসিএল) বেইস ক্যাম্প স্থাপন করে এবং ওই ক্যাম্প থেকে যমুনা ব্রীজ এক্সেস রোড় প্রজেক্ট-৮ এর কাজ পরিচালনা করতো।

তখন থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ক্যাম্পটি সেখানেই রয়েছে। কয়েকদিন পূর্বে প্রতিষ্ঠানটি শাহ কালা ওয়াকফ এস্টেটের ড্রেন দখল করে স্থায়ী দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা চালালে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে স্থানীয়রা আশংকা করছেন যেকোন মুহুর্তে জোরপূর্বকভাবে ড্রেনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দখলে নিয়ে যেতে পারে।

ড্রেনটি দখল যেন না করে সেই মর্মে স্থানীয় বাসিন্দা ২০ জন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ও জোরারগঞ্জ থানায় দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোতাহার হোসেন, কামরুল হাসান, মোশাররফ এইচ সাগরসহ বেশ কয়েকজন জানান, কয়েক যুগ ধরে বারমাসী ছড়ার পানি ও পাহাড়ী ঢলের পানি নিষ্কাশিত হয়ে আসছে শাহ কালা ওয়াকফ এস্টেটের ওই ড্রেন দিয়ে।

কিন্তু ড্রেনটি ক্রমান্বয়ে সরু হয়ে যাওয়ার ফলে পানি প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তম্মধ্যে ড্রেন দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হলে প্রায় আড়াইশ পরিবার বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা ড্রেনটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও শাহ কালা ওয়াকফ এস্টেটের ওই জায়গার উত্তাধিকারী সূত্রে মালিক জি.এম সহিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি দীর্ঘসময় ধরে সোনাপাহাড় মৌজার বিএস ২৮৪০ নম্বর খতিয়ানের ১১৫২১ দাগের ১৩ শতাংশ নাশি (ড্রেন) ও ১১৪৯১ দাগের ডোবার ২ শতাংশ দিয়ে নিষ্কাশিত হয়ে আসছে।

কয়েকবছর পূর্বে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল তাদের ক্যাম্প স্থাপনের সময় ড্রেনের আংশিক গতিপথ পরিবর্তন করে ভিন্ন পথে পানি প্রবাহিত করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি পার্শ্ববর্তী জমি ক্রয় করে ড্রেনটি ভরাট করার ফলে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি স্থায়ীভাবে তারা তড়িগড়ি করে দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে ড্রেনটি পুরোপুরিভাবে দখলে নিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাইনি।

তিনি আরো বলেন, ড্রেনটি পুরোপুরিভাবে দখল হয়ে গেলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়দের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়বে, আবাদী জমির ফসল এবং পুকুরের মাছ ভেসে যাবে।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুল হক জানান, ড্রেনটি দখল হয়ে গেলে মস্তাননগর গ্রামের আড়াইশ পরিবারের প্রায় সহ¯্রাধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়বে এবং প্রায় ৮০ একর আবাদী জমির ফসল বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ফনীর সময় পানি নিষ্কাশনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করে।

তিনি আরো বলেন, কাগজে-কলমে যেখানে ২১ ফিট ড্রেন থাকার কথা সেখানে বর্তমানে ড্রেন রয়েছে ২ ফিটের মতো।

২৯৫ ফিট দৈর্ঘ্যরে ড্রেনটির পুরো অংশই সিপিসিএল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় তারা ইতিপূর্বেও ড্রেনটি ভরাট করে সঙ্কুচিত করে ফেলে এখন তারা স্থায়ীভাবে দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে ড্রেনটি পুরোপুরিভাবে বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল’র কর্মকর্তা সেকান্দার হায়াত জানান, পানি নিস্কাশনের জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে করা ড্রেন আছে। সেটা দিয়ে পানি নিস্কাশন হয়। আমরা ১৯৯৭ সালে জায়গা ক্রয় করে এখানে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। এত বছর পানি নিস্কাশনের সমস্যা হয়নি, হঠাৎ সমস্যা হবে কেন বুঝতেছিনা।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন জানান, জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকার লোকজনের দেওয়া লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য স্থানীয় তহসিলদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly and PDF

———