চট্টগ্রাম, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ , ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেনা কৃষকরা ৫শ’ টাকার ধানে ৭শ টাকা মজুরী

এক মন ধানে মিলছে না এক কেজি গরুর মাংস

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৩১ মে, ২০১৯ ১২:২৯ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ধানের ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না কৃষকরা। প্রতিমন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫শ টাকা অথচ একজন শ্রমিকের মুজুরী ৭শ টাকা। একমন ধান বিক্রি করে এক কেজি গরুর মাংসও মিলছেনা। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এখানকার কৃষকরা।

প্রশাসন বলছে, সরকার ২৬ টাকা কেজি ধান ও ৩৬ টাকা কেজি বোরো চালের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে। কৃষক সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে এসব ধান-চাল সরবরাহ করতে পারলে হাসি ফুটবে তাদের মুখে। কিন্তু সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করছে তা পরিমানে একেবারে কম।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘটিয়েছেন মিরসরাইয়ের কৃষকেরা। ধান কেটে ঘরে তুলেছেন আরো আগে। আশনুরূপ মুল্য না পাওয়ায় অনেকে বিক্রি করতে পারছেন না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে ১৪শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। চাষকৃত ধান থেকে ৭ হাজার ৫শ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়েছে।

এদিকে শ্রমিক সংকটের সাথে সাথে দাম না পাওয়ায় বাম্পার ফলনেও হাঁসি নেই কৃষককের মুখে। উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রি মূল্য কম থাকায় এই ধান নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে।

অনেক কৃষকের ঘরে আবার গত বছরের উৎপাদিত ধান রয়ে গেছে। দাম কম থাকার কারণে এসব ধান গত বছর বিক্রি না করলেও এবছর এক মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে টাকায়।

বীজ, সার ও পরিচর্যা খরচ এবং শ্রমিকের অধিক মুল্য চুকিয়ে ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে এখানকার কৃষকরা।

জানা গেছে, উপজেলার কৃষকেরা এবার সোনার ফসল বোরো ধান ঘরে তোলার আগে থেকে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু ধানের দরপতন এভাবে হবে তা কখনো ভাবেনি কৃষকেরা।

এ বছর রমজান শেষ হতে চলেছে, শুধু ধানের দাম না থাকায় কৃষক পরিবারগুলোতে ঈদের আনন্দ নেই বললেই চলে।

জানা গেছে, বোরো মওসুমের শুরুতে কৃষকেরা বিভিন্ন ব্যাংক এনজিও থেকে মওসুমি ঋণ গ্রহণ করে বোরো ফসল চাষাবাদ করে এবং মওসুম শেষে ফসল বিক্রি করে তারা ধারকর্জ পরিশোধ করে থাকেন।

আর অবশিষ্ট ফসল ও ধান বিক্রয়ের টাকা তারা সারা বছরের সঞ্চয়ের জন্য রাখেন। কিন্তু এ বছর ধানের দাম কম থাকায় ও ফসলের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচের টাকাও ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।

উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক শাহাব উদ্দিন বলেন, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করে কোনমতে সংসার চলছে। এবারের বোরো মৌসুমে ধান চাষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব টাকা ধার কর্য করে খরচ করেছি। একমন ধান উৎপাদনে প্রায় সাড়ে ৭শ টাকা খরচ হয়েছে।

কিন্তু এখন বাজারে প্রতিমন ধান ৫শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাই এখনো ধান বিক্রি করিনি। সামনে ঈদ আসছে, সাথে রয়েছে পাওনাদার কি করবো বুঝতে পারছিনা। শুধু কৃষক শাহাব উদ্দিন নয়, সব কৃষকের একই অবস্থা।

বারইয়ারহাটের সারের ডিলাল মেসার্স আবুল হোসাইন এন্ড ব্রাদার্স এর পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন বলেন, ধানের উৎপাদানের খরচও উঠছেনা কৃষকদের। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে কৃষকরা। সরকারকে এই বিষয়ে যথাযথ প্রদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ ধানের উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কমের বিয়ীট স্বীকার করে বলেন, এবার উপজেলায় ১৪শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এতে ৭ হাজার ৫শ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়েছে।

সরকারীভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ১ প্রতিমন ধান ১হাজার ৪০ টাকা ধরে ক্রয় করছে। খাদ্য অধিদপ্তর কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান সংগ্রহ করবেন মাত্র ৪৩ মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ৫শ মেট্রিক টন।

Print Friendly and PDF

———