চট্টগ্রাম, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ , ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে ভবনে ফায়ার সেফটি প্ল্যান না থাকাতে বাড়ছে অগ্নিদুর্ঘটনা

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২৪ মে, ২০১৯ ২:৫০ : অপরাহ্ণ

মিরসরাইয়ে আশঙ্কাজনকহারে কমে যাচ্ছে পুকুর। ফলে আগুন লাগলে পানি সংকটের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা নেভানো যাচ্ছে না। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন বিপিনী বিতান ও আবাসিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার সেফটি প্ল্যান না থাকাতে বাড়ছে অগ্নিদুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের প্রবেশ মুখে দেওয়া গোলবারের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে দেরী হচ্ছে। যার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী পৌঁছানোর পূর্বে আগুনে সব ভস্মীভূত হয়ে যায়।

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই অংশে প্রায় ১’শটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। যেখানে ১’শ ২০ জনকে জীবিত আর ১৯ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে।

২০১৮ সালে উপজেলায় প্রায় ৭৬টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর চলতি বছর ৩০টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে শত কোটি টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিপনী বিতানে গিয়ে দেখা যায় মার্কেটগুলোতে নেই নিজস্ব কোন অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা। বাণিজ্যিক ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল, রেষ্টুরেন্ট। যেখানে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে খাবার রান্না করা হয়। ফলে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে পুরো বিপনী বিতানে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্পে ফায়ার এক্সটিংসার লাগানো থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। উপজেলাতে কি পরিমাণ আবাসিক ভবন ও বিপনী বিতান অগ্নিঝুঁকিতে আছে তার নির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে।

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বারইয়ারহাট পৌরসভার মসজিদ গলির মার্কেট সহ আশেপাশের মার্কেটগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

পৌরসভার ওই অংশে অগ্নিনির্বাপনের জন্য কোন পুকুর বা পানির উৎস না থাকাতে ওখানে আগুন লাগলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক কিংবা রেলপথের যেকোন একটি পথ বন্ধ করে দিতে হবে।

অগ্নিনির্বাপন করার জন্য প্রত্যেকটি বাণিজ্যিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার সেফটি প্ল্যান থাকার কথা থাকলেও বারইয়ারহাট পৌর এলাকার ভবনগুলোতে তা নেই।

এছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল রেস্টুরেন্ট। ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থেকে হোটল বা রেষ্টুরেন্ট করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না কেউ।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কতিপয় ব্যবসায়ী জানান, হাসপাতাল, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, হোটেল সহ বিভিন্ন ব্যবসার ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার ফলে অনেকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

মিরসরাইতে ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন থাকার পরও লাইসেন্সের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের আগ্রাবাদ অফিস থেকে। সেখানে লাইসেন্স আবেদনের পর তদন্তের নামে অতিরিক্ত টাকার জন্য বিভিন্ন সময় হয়রানী করা হয়।

ফলে ব্যবসায়ীরা ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স নিতে তেমন আগ্রহী হন না।

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইন্সফেক্টর মোঃ রবিউল আযম বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এজন্য প্রতিটি আবাসিক ভবন ও বিপনী বিতানে নিজস্ব ফায়ার সেফটি প্ল্যান থাকা প্রয়োজন।

অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে ব্যবসায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অগ্নিনির্বাপন মহাড়া বাড়াতে হবে। এতে করে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ষ্টেশন শুরুতে সি গ্রেডে থাকলেও বর্তমানে বি গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার যেকোন স্থানে আগুন লাগলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা নেভানোর জন্য ষ্টেশনে আরো একটি টানা গাড়ী প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সের বিষয়ে তিনি বলেন, লাইসেন্সের আবেদনের প্রাথমিক কাজ আমরা করি। পরবর্তীতে মূল কাজ আমাদের আগ্রাবাদ অফিসের ইন্সফেক্টররা করেন। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানীর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

Print Friendly and PDF

———