চট্টগ্রাম, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ , ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নতুন দিগন্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট

সিটিজি টাইমস ডেস্ক প্রকাশ: ১৮ মে, ২০১৯ ১২:২০ : অপরাহ্ণ

হৃদয় জিততে জিততে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। স্কটিশ রাজা রবার্ট ব্রুস, ময়মনসিংহের শীতল সরকারদের মতো ছয়বার ফাইনাল হেরেছিল টাইগাররা।

লাকি সেভেন বলে কিছু রয়েছে এই পৃথিবীতে। সেই লাকি সেভেন তথা সপ্তম প্রচেষ্টায় ফাইনাল জয়ের ইতিহাস গড়তে সমর্থ হলো বাংলাদেশ। হৃদয় নয়, এবার ট্রফিটাই জিতেছে টাইগাররা।

সাফল্যের নতুন দিগন্তে শুরু হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের যাত্রা। দ্বিপাক্ষিক অনেক বড় বড় সাফল্য আছে বাংলাদেশের। ছিল না বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ট্রফি জয়ের গৌরব।

গতকাল আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে চলে আসা মাশরাফি বিন মুর্তজার হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হলো অর্জনের নতুন পালক।

গতকাল মালাহাইডে বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে ডিএল মেথডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

ফাইনালটি অবশ্য বাংলাদেশের স্নায়ুর চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছে। ছিল বৃষ্টির বাধা, ডিএল মেথডের খড়গ হিসেবে আসা বাড়তি রানের চাপ।

সৌম্য- মোসাদ্দেকের ব্যাটে সব প্রতিকূলতা ‍উতরে শিরোপা জিতে গেছে বাংলাদেশ। শুরুতে নান্দনিক ব্যাটিংয়ে বিমোহিত করেছেন সৌম্য। পরে মোসাদ্দেকের টর্নেডো নিশ্চিত করেছে ঐতিহাসিক জয়।

গতকাল টসে হেরে আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তুলেছিল। তারপরই মালাহাইডে নামে বৃষ্টি। ভেজা আউটফিল্ড ও বৃষ্টির কারণে প্রায় পাঁচ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ম্যাচের দৈর্ঘ্য নির্ধারিত হয় ২৪ ওভার।

বৃষ্টির আগে ও পরে ব্যাট করে ক্যারিবিয়ানরা এক উইকেটে ১৫২ রানের স্কোর গড়ে। পরে ডিএল মেথডে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২১০ রান।

জবাবে ২২.৫ ওভারে সৌম্য-মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরিতে পাঁচ উইকেটে ২১৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

৭ বল আগে আসা জয়ে ম্যাচ সেরা হন ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের (২ চার, ৫ ছয়) বিস্ফোরক ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক। যা ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড।

রান তাড়া করতে নেমে সৌম্যর ব্যাটিং ঝড়ের পরও ৬০ রানে দুই উইকেট হারায় বাঙলাদেশ। তামিম ১৮, সাব্বির শুণ্য রানে ফিরেন। তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়েন সৌম্য-মুশফিক।

২৭ বলে দশম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সৌম্য। হাফ সেঞ্চুরির পরও তোপ দাগাচ্ছিল তার ব্যাট। কিন্তু ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে রেইফারের শিকার হন তিনি। সৌম্য ৪১ বলে ৬৬ রান (৯ চার, ৩ ছয়) করেন।

দলীয় ১৩৪ রানে ফিরে যান মুশফিক। ২২ বলে ৩৬ রান করেন তিনি। ভালো শুরু করার পরও রিভার্স খেলতে গিয়ে এলবির ফাঁদে পড়েন মিঠুন (১৭)। ১৪৩ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

পরে মোসাদ্দেক-মাহমুদউল্লাহর ৭০ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা। ২২তম ওভারে তিন ছয়, এক চারে ২৫ রান তুলে রান-বলের দূরত্বটা ঘুচিয়ে দেন মোসাদ্দেক।

২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। পরের ওভারে মাহমুদউল্লাহর চারে জয় নিশ্চিত হয়। ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ।

Print Friendly and PDF

———