চট্টগ্রাম, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ , ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হতাশ হলে চলবে না, নেতাকর্মীদের ফখরুল

প্রকাশ: ১০ মে, ২০১৯ ২:৩৪ : অপরাহ্ণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করছেন। তার নির্দেশে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।’

শুক্রবার (১০ মে) জাতীয় প্রেসক্লাব খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন ও চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালনের তিন যুগ পূর্তি উপলক্ষে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদেরকে লড়তে এবং সংগ্রাম করতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। আমাদেরকে প্রতিটি সুযোগ নিতে হবে, পথ বের করতে হবে।

কিন্তু এটা সহজ নয়, কঠিন কাজ। কারণ বিভিন্নভাবে বিএনপি ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দল পরিচালনায় করছেন।

আর তার নির্দেশে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক রাজনীতির দিকে নিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা বেগম জিয়া ও শহীদ জিয়ার যে আদর্শ, চিন্তা এবং রাজনীতির ধারা ছড়িয়ে দেন। আমাদেরতো বয়স হয়ে গেছে। এখানে যারা আছি, আমরা দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছি। আমরা বৃদ্ধ হয়েছি। আর এখন আপনাদের সময়। আপনারা দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

বিএনপির এই নেতা তার নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের সময় তো শেষ হয়ে আসছে। এখন যারা সামনে আসবেন, এই বাংলাদেশের শুধু রাজনীতি নয়, এই বাংলাদেশকে বাঁচাতে তাদেরকে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশে অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব থাকবে কি থাকবে না, বাংলাদেশ নিজ মর্যাদায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে কি পারবে না এবং বাংলাদেশ নিজের পায়ের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কি পারবে না, আজকে সেই প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে।

কারণ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করবার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন রাজনীতিতে আসেন তখন বাংলাদেশ একটা স্বৈরাচার শাসকের কবলে পড়েছিল।

শুধু স্বৈরাচার শাসনই ছিল না, অত্যন্ত সুচারুভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করবার নতুন একটা প্রক্রিয়া ও প্রচেষ্টা ছিল।

আমরা লক্ষ্য করেছি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরে স্বৈরাচার এরশাদের রাজনীতিতে আগমন, এটা একই সূত্রে গাঁথা ছিল। সুতরাং এটাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার উপায় নেই।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ছিল। সেই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে সেই দলটিকে বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন।

এটা তার জীবনে ও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা বড় অধ্যায়। আর আমার মনে হয়, এদেশে বেগম জিয়াকে বিভিন্নভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তবে আমরা মতে, এশিয়ায় তার মতো গণতন্ত্রকামী ত্যাগী নেত্রী খুব কম খুঁজে পাওয়া যাবে।’

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ।

আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি শুরু থেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়া পর্যন্ত ৯০টি ছবি প্রদর্শন করা হয়।

এনআরসি’র সভাপতি বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুর ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

Print Friendly and PDF

———