fbpx

চট্টগ্রাম, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ , ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আরব আমিরাতে তেল ট্যাংকারে ‘হামলা’, ইরান আক্রমণে মোক্ষম অজুহাত!

সিটিজি টাইমস ডেস্ক প্রকাশ: ১৩ মে, ২০১৯ ১২:২৭ : অপরাহ্ণ

নিজেদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে ‘নাশকতামূলক হামলা’র শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। দেশটির এমন দাবি ইরান আক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহর বরাত দিয়ে সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ফুজাইরাহ উপকূলে ট্যাংকার দুটির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, দুই ট্যাংকারের একটি তেল নিতে সৌদি আরবে আসার পথে ছিল। ‘সৌদি আরমকো’র কাস্টমারের তেল নিয়ে ওই ট্যাংকারের পরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল।

আল-ফালিহ আরও বলেন, “সৌভাগ্যক্রমে হামলায় কোনো হতাহত এবং তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি। অবশ্য এতে দুটি ট্যাংকারই বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

এমন সময় সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী এ দাবি করলেন যখন নাবিকদের হামলার বিষয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক মিত্র আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে চারটি জাহাজে নাশকতামূলক হামলার নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।

এর আগে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার দাবি করেছেন, দেশটির জলসীমায় চারটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরে বিদেশি বেসামরিক জাহাজে এসব হামলা হয়। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে আমিরাত।

এদিকে ইরানকে ইঙ্গিত করে যখন এসব হামলার দাবি করা হচ্ছে, তখন ইরানের কথিত হুমকির জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে অবরোধ আরোপ নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দেশটিতে হামলার তোড়জোড় করছে ইসরায়েল। এজন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর ‘গ্রিন সিগন্যাল’ আদায় করে নিয়েছে ইহুদিবাদী দেশটি।

ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান

ইসরায়েলি একজন মন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান।

তিনি বলেন, ইরান ইসরায়েলে সরাসরি বা প্রক্সি হামলা চালাতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বাদ দিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান। এসময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথাও তুলে ধরেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই উত্তেজনার মধ্যে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তবে নিজেদের চরম শত্রু ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তেলআবিব।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কোনও প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এর আগে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনে ইরানের সমর্থনপুষ্ট এসব গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ইসরায়েল। তবে ইরানের সঙ্গে উন্মুক্ত যুদ্ধে জড়ায়নি ইসরায়েল।

Print Friendly and PDF

———