চট্টগ্রাম, সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ , ১০ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বন্দরনগরীতে জলাবদ্ধতা, ৫৬১৬ কোটি টাকার সুফল কবে?

প্রকাশ: ২৬ মে, ২০১৯ ১১:৫৩ : পূর্বাহ্ণ

বন্দরনগরীতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। গত শুক্রবার রাতে প্রায় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যায় নগরীর বেশিরভাগ এলাকা। বর্ষা শুরুর আগেই এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। খবর দেশ রূপান্তর

তাদের আশঙ্কা, বর্ষায় টানা বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতা আরও চরম আকার ধারণ করবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) ৫৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের সুফল কবে মিলবে এখন এই প্রশ্ন নগরবাসীর।

গত শুক্রবার রাত ৮টা থেকে পৌনে ৯টা পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিতে নগরের মুরাদপুর, ২ নম্বর গেইট, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, হালিশহর, ঈদগাঁও, কাতালগঞ্জ, বাটালী রোড, বাদুরতলা, ষোলশহর, খুলশী কলোনি, বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া, তালতলা, খলিফাপট্টি, ঘাটফরহাদবেগ, বিআরটিসি ফলমন্ডি, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, আগ্রাবাদ, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

এদিকে ৫৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলছে। গত বছরের ২৮ এপ্রিল থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর।

এই প্রকল্পের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থাও কাজ করছে। তবু কাটেনি জলাবদ্ধতায় ভোগান্তির আশঙ্কা।

গতকাল শনিবার বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও জলাবদ্ধতায় কষ্টে পড়ে গেলাম। কিছুদিন আগে বাড়ির পাশে চাকতাই খাল পরিষ্কার হওয়ায় ভেবেছি এ বছর অন্তত বৃষ্টি হলেও পানি কম উঠবে।

কিন্তু ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে আগের চেয়ে পানি বেশি উঠেছে। কখন যে এই দুঃখ থেকে মুক্তি পাব!’

জানতে চাইলে সিটি চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন  বলেন, ‘চসিকের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ড্রেন-নালা পরিষ্কার করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে সিডিএ।

সিডিএ চেয়ারম্যান গত বছর বলেছিলেন এ বছর আগের চেয়ে কম জলাবদ্ধতা হবে। কিন্তু কই? নগরবাসী তো চরম দুর্ভোগে পড়ে গেল।’

মানুষ সিটি করপোরেশনকেই দায়ী করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সিডিএর দায়ভার চসিক নেবে কেন? জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে যারা এই বিষয়ে পারদর্শী, অভিজ্ঞ তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’

বর্ষায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ৪৯৮টি খাল-নালা ও ড্রেন জরুরিভিত্তিতে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মত দেন মেয়র।

এ ব্যাপারে সিডিএর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে।

গতকাল (শুক্রবার) সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ার পর সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘যেসব এলাকায় আগে পানি দুয়েকদিনের বেশি জমে থাকত, এবার তা হয়নি। খাল ও নালা পরিষ্কারের কারণে এবার বৃষ্টি শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টার মধ্যে পানি নালা হয়ে খালে নেমে গেছে। এর কারণ পরিকল্পিতভাবে কিছু খাল ও নালা পরিষ্কার।’

দুর্ভোগ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ডিজিটাল ম্যাপ করা হয়েছে জানিয়ে তানভীর মাজহার সিদ্দিকী বলেন, ‘বর্ষার আগে আরও বেশ কয়েকটি খাল ও নালা পরিষ্কার করা হবে।’

সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মঈনুদ্দীন বলেন, ‘খাল ও নালা পরিষ্কারের কারণে এবারের বৃষ্টিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে থাকা খালগুলোতে রিটেইনিং ওয়াল দেওয়ার জন্য সার্ভে করা হয়েছে।

এসব খালপাড়ের অনেক জায়গা অবৈধ দখলে। এসব উদ্ধারে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হবে। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে নগরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।’

বন্দরনগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট মেগা প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। সিডিএর নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে পরে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।

Print Friendly and PDF

———