চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

চট্টগ্রামে এবারও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের আশঙ্কা!

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৬ ১০:১৯:০২

গত কয়েক বছরের জলাবদ্ধতার তিক্ত অভিজ্ঞতা চট্টগ্রামবাসী এখনো ভোলেননি। এবারও আগাম বর্ষার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছিল, এ বছর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

কিন্তু বন্দরনগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে বর্ষার আগে জলাবদ্ধতার দীর্ঘ ভোগান্তির আশঙ্কা থাকছেই।

গত এক বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাজ কেবল খাল পরিষ্কারেই সীমাবদ্ধ ছিল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও (চসিক) নগরের ৪১টি খাল থেকে মাটি ও আবর্জনা তুলছে।

বন্দরনগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয় গত বছরের ২৮ এপ্রিল। এক বছরে প্রকল্পের অধীন ৩৬টি খালের ৫০ শতাংশের পরিষ্কার কাজ হয়েছে বলে সিডিএ দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বেশিরভাগেই ময়লা-আবর্জনা জমে আছে।

এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে। এর অধীনে ৩৬টি খালের মাটি অপসারণ ও খনন, ৫টি টাইডাল রেগুলেটর, ১২টি পাম্প হাউস স্থাপন, ২০০টি ক্রস ড্রেন কালভার্ট নির্মাণ, ১৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রোড সাইড ড্রেনের সম্প্রসারণ, বন্যার পানি সংরক্ষণে ৩টি জলাধার, ৬টি আরসিসি কালভার্ট প্রতিস্থাপন ইত্যাদি কাজের কথা থাকলেও গত এক বছরে খাল পরিষ্কারেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্পের উপপরিচালক ও সিডিএর প্রকৌশলী কাজী কাদের নেওয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৩৬টি খালে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। সম্প্রতি চাকতাই খাল, নোয়াখাল, মহেশখাল, গয়নছড়া খাল, বির্জাখালসহ বেশ কয়েকটিতে কার্যক্রম ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

মহেশখালে রেগুলেটর স্থাপন করা হচ্ছে। ১৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মিত হচ্ছে। এ ছাড়া চাক্তাই খাল, রাজাখালী খাল ও বলিরহাট খালে রেগুলেটর স্থাপন করা হবে। এরপর খাল খনন, রিটেইনিং ওয়াল ও পাম্প হাউস করা হবে।

সরেজমিনে চাকতাই, বির্জা, চশমাখাল ঘুরে দেখা যায়, এগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরা। পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো হলেও পরবর্তীতে ফেলা বর্জ্যে খালগুলো ভরে গেছে।

এ ব্যাপারে ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজি মো. হারুন উর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সিডিএ গত বছর নামমাত্র বির্জাখাল পরিষ্কার করেছিল। বর্তমানে আবর্জনায় ভরে গিয়ে এতে পানিপ্রবাহ নেই। সম্প্রতি ভদ্রঘোনা খালের ওপর সিডিএ বাঁধ দিয়েছে।

এতে আরও সমস্যা দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘চাকতাই ও বির্জাখাল পরিষ্কার ও খনন করা না হলে আসন্ন বর্ষায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।’

প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছর নগরবাসী যেই সুফল পেয়েছে, তার চেয়ে এবার একটু বেশি পাবে। যেহেতু এখনো সকল রেগুলেটর স্থাপন কাজ শেষ হয়নি, তাই এবারও জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারে।’

বর্ষায় জলাবদ্ধতা ঠেকাতে জোরেসোরে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ৪১ ওয়ার্ডে ভরাট নালা-নর্দমাগুলো থেকে মাটি-আবর্জনা উত্তোলনে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত রেখেছে চসিক। গত ১১ মার্চ শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে ৩৫ ওয়ার্ড থেকে প্রায় ৫ হাজার টন মাটি উত্তোলন করা হয়েছে।

বর্ষায় জলাবদ্ধতা ঠেকাতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাসবাপী ক্রাশ প্রোগ্রামের পাশাপাশি যেসব খালে নিচু ব্রিজের কারণে পানিপ্রবাহ বাধা পাচ্ছে, সেগুলো উঁচু করা হচ্ছে।

পাশাপাশি নগরজুড়ে পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।