চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

মুছে যাক গ্লানি, সুদিন আসুক বৈশাখে

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৪ ০৫:২৫:৫০

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুঁচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’- সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে শুচি করে তুলতেই আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ।

পয়লা বৈশাখ। ১৪ এপ্রিল। শুধু বদল হবে সন। ১৪২৬। উঠবে নতুন সূর্য। শন-শন বইবে বাতাস। তা কি মন্দা? না, মৃদুমন্দ। না-কি দমকা হাওয়ায় উড়িয়ে নেবে! বিদায়ী অস্তগামী সূর্যটা নিস্তেজ হয়েই বরাবরের মতো উঁকি দেবে! সূর্যটাকি সত্যিই নতুন হবে?

চলমান সময়ের অবক্ষয়, ধস; ক্রমাগত দুর্ঘটনায় বিমর্ষ প্রাণ চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় আছে সুদিনের। চলতি পথে দেয়ালের গ্রাফিতিতে চোখ উজ্জীবিত হয়- ‘সুদিন আসবে’। পরক্ষণেই কান্না, ক্ষোভ ও নালিস নিয়ে কে যেন ফিস ফিস করে কানের কাছে বলে, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা’।

আসলে অবয়বহীন এই সময়ে পতনে মিছিলে একাকার আমাদের বিশ্বাস। উচ্ছ্বাস।

কেননা মেরুদণ্ডহীন হয়ে আমরা এখন শিখে গেছি, ইট-পাটকেল নিজের পিঠে না পড়া পর্যন্ত ঢুলু-ঢুলু চোখে পথ চলা। অপরাধী আর নিপীড়কের সঙ্গে স্রোতের অনুকূলে পাল তুলে চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

পরিস্থিতি অনুযায়ী, রঙ ধনুর মতো রং বদলাতে পারি। সময়ের পরতে পরতে থাকা সেলিফিনের প্রমাণ থাকার বিষয়টিও যেন ভুলে যাই। ইয়াসমিন থেকে নুসরাত; সড়কে গতির কাছে জীবনের পারাজয়; হররোজ সাম্প্রদায়িক ভেঙচিতে অসম্প্রদায়িকতার বীজ বপনের চেষ্টা; ডিজিটাল উগ্রতার মাতম, জজ মিয়া থেকে জাহালাম; সময়ের পরতে পরতে ফিরিস্তির শেষ নেই।

রাস্তায় নেমে বুক সটান করে নতুনেরা কেতন উড়িয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের বারতা দেখিয়ে দিলেও আমাদের ঘুম ভাঙেনি। বরং ডান্ডা দিয়ে ঠান্ডা করার সকল কসরতেই আমরা সফল।

মুহূর্তের মধ্যে ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যায়। ফলস্বরুপ, যেন একান্তে কিছু বলতেও ভয়! কে, কোথায়, কার, কোন কারণে, কোন পরিস্থিতিতে কী বলা যাবে আর যাবে, অথবা যাবে না তাতেই বন্দি।

বেলা শেষে, আাশার কথা হলো- এই জুজুবুড়ির ভয় উপেক্ষা করে জয় না পেলেও জীবন সায়াহ্নে নুসরাত বলে গেছে কতটা ঘুণে ধরেছে আমাদের শরীর, মস্তিষ্ক। চিন্তা- চেতনা। কেবলি বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় বর্তুল যেন।

ক্ষমতার দোর্দান্ড প্রতাপ নিকষ অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে বাতিঘরকেও। তেজারতির তেজে কিভাবে পুড়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম। মনুষ্যত্ব। নীতির রাজারা যেন ঘুরছে দণ্ডে দণ্ডে। উঁই পোকায় ছাড়খাড় পরিবার, সমাজ, দেশ।

রন্ধ্রে রন্ধ্রে লালসা। পা, চোখ আর সামনে এগোয় না। কেবলি পেছনে টানে।

না, আর নয়। নৃশংসতা আর দুঃস্বপ্নের স্মৃতি না হাতড়িয়ে ঘৃণা আর প্রতিহিংসার অবসান ঘটিয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে মনের ভেতরে সাহসকে। ভীরু আর কাপুরুষতার কবর দিতে না পারলে এ থেকে নিস্তার নেই।

নতুন সকালে, নতুন ভোরে ভর করে আসুক সেই সাহস। যে সাহস নিয়ে ই-জিপির জনৈক ঠিকাদার চাঁদাবাজদের হাতে রক্তাক্ত হয়েও ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন সবার মধ্যেই ফিরে আসুক সেই যৌবনোদ্দীপ্ত সুদিন।

আর কৃষ্ণচূড়ার রঙ হৃদয়ে ছড়িয়ে যারা বিশেষ করে যেই আনসার সদস্যরা তার প্রতিবাদটি নাটক দৃশ্যায়নের মতো গিলছিলেন তাদের হুঁশ ফিরে আসুক। ফিরে আসুক বুক ভরা বল। সেই বলে বলীয়ান হয়ে, সৎসাহসে ভর করে নতুন ভোরে সমস্বরে বলি- এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।