চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

আবহাওয়ার দ্বৈত আচরণ সম্পর্কে কি জানা যাচ্ছে?

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১০ ১১:০৭:২৬

বৈশাখের শুরুতে আবহাওয়া কিছুটা মেজাজি হয়ে উঠলেও এবারের চিত্র আগের বছরগুলোর থেকেও ভিন্ন। আকাশে রোদ আর তীব্র গরমের পরেই কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে চারদিক। কিছুক্ষণ পর দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি। কোথাও কোথাও বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিও পড়তে দেখা গেছে।

গতকালও এমনই ছিল চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের আবহাওয়ার পরিস্থিতি।

মার্চ মাস শেষ হয়েছিল আকস্মিক এক কালবৈশাখী ঝড়ে। ধারণা করা হয়েছিল, এপ্রিলের শুরুটাও বোধহয় এমনই হবে। তবে আবহাওয়ার অপ্রত্যাশিত আচরণে পরের দিনই দেশের মানুষ পায় এক রোদ-ঝলমলে রঙিন দিন। সপ্তাহব্যাপী চলে সূর্যের দাপট।

এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে আবারও পাল্টে যায় ‘জল-পরি’র মেজাজ। অকাল বোধনে বসন্ত আসার মতো এবার যেন ‘অ-কালবৈশাখী’ আঘাত হানছে জনপদে।

আবহাওয়া কি আদৌ বৈরী আচরণ করছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আবহাওয়া ঠিক বৈরী আচরণ করছে তা বলা যাবে না। তবে এবার কালবৈশাখী কিছুটা আগেই শুরু হয়ে গেছে বলা যায়।

এ মাসে আরও দু’টি কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার আশংকা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

যার একটি হতে পারে এই মাসের ১৭ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে যেকোনো সময়ে। অপরটি আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে মাসের শেষে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, ‘এ মাসে প্রকৃতি দ্বৈত আচরণ করবে। এখন যেমন বৃষ্টি চলছে, সেটা থামলেই আবার তাপমাত্রা বেড়ে যাবে।বৈশাখের পর প্রকৃতির বৈরিতা কিছুটা কমতে পারে। তখন সূর্যের তেজ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।’

এপ্রিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বজলুর রশীদ। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা এই মাসে দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় শুষ্ক যাবে।

এপ্রিলের বৃষ্টি প্রসঙ্গে আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,  চট্টগ্রামে ১৩০ থেকে ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়-বৃষ্টি নিয়মিত হলেও এবার আগাম বন্যার সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়াবিদরা সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, এবার বৃষ্টি হচ্ছে ঠিক, তবে সেটা আগাম বন্যার কারণ হবে না।