চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে চবি ক্যাম্পাস রণক্ষেত্র, শিগগির কমিটি

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০৭ ১২:৫৪:১৩

৬ কর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ করছে ছাত্রলীগের একাংশ। সেইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়গামী সকল শাটল ট্রেন এবং শিক্ষক বাস আটকে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আজ রোববার সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বর্তমানে সংঘর্ষ চলছে।

জানা যায়, চবি শাটল ট্রেনভিত্তিক ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে সকাল থেকে তারা বিক্ষোভ করে।

আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের প্রধান গেইট তালাবন্ধ করে জিরোপয়েন্টে অবস্থান নেয়। ফলে যানচলাচল বন্ধ থাকায় অচল হয়ে পরে চবি। পরে পুলিশ এসে তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের সময় পুলিশের এক কনস্টেবল ও ছাত্রলীগের তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওসি বেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার সংঘর্ষ হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ ছিল না। হলে ভাঙচুর, দুই গ্রুপের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ অভিযানে নামে। এ সময় সংঘর্ষে জড়িত কয়েকজন আটক ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়।

এতে তারা অবরোধের ডাক দেওয়ার যুক্তি খুঁজে পাই না। মামলা ও আটক হওয়ার বিষয়টি আমরা দেখবো বলেছি, এরপরও তারা অবরোধ পালন করছে।

শিগগির চবি ছাত্রলীগের কমিটি, শান্ত থাকার আহ্বান

চলতি মাসেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে চবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৭ এপ্রিল) সকালে শিগগির কমিটি ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, আমরা আশা করছি এ মাসেই কমিটি দিয়ে দেওয়ার। এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে। কমিটি হওয়ার পর আশা করছি- চবি প্রশাসন চাকসু নির্বাচন দেবে।

বর্তমানে ছাত্রলীগ একাংশের অবরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশৃঙ্খলা করে সমাধান সম্ভব নয়। অবরোধের বিষয়ে আমি খবর নিচ্ছি। তাদেরকে বলবো, শান্ত থাকতে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে আলমগীর টিপুকে সভাপতি ও ফজলে রাব্বি সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়।

বারবার সংঘর্ষের কারণে ২০১৭ সালের মে মাসে এ কমিটি স্থগিত করা হয়। স্থগিত রাখার পরও সংঘর্ষ না থামায় ওই বছরের ডিসেম্বরে স্থগিত থাকা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।