চট্টগ্রাম, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

বনানীর অগ্নিকাণ্ডে নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য গণপূর্তমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৯ মার্চ, ২০১৯ ২:০৪ : অপরাহ্ণ

বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। আর অগ্নিকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী তারা যত শক্তিশালী আর প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনা তদন্তে আমাদের কমিটি কাজ করছে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন সবার সামনে প্রকাশ করবো। আমার মতে, এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এফ আর টাওয়ার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল দুপুরে বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের ২২ তলা ভবন এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর বিকাল পৌনে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ২৫ জন নিহত ছাড়াও আহত হয়েছেন ৭৬ জন।

আগুন লাগার ঘটনায় পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রাজউকের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করা হয়েছে।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিট গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি তদন্ত করছে। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন সবার সামনে প্রকাশ করবো। এছাড়া রাজউকের পক্ষ থেকেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাও কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তথ্য পেয়েছি, ভবনটি ১৮ তলা নির্মাণের জন্য পাশ হয় ১৯৯৬ সালে। কিন্ত ২০০৫ সালে একটা কপি দাখিল কর হয় যে, ভবনটি ২৩ তলা হয়েছে। সেটাকে সন্দেহ হওয়ার কারণে তদন্ত করা হয়। সেই তদন্তে দেখা যায়, তারা যে কপি দাখিল করেছে, সে সম্পর্কে রাজউকের রেজিস্ট্রারে কোনও তথ্য নেই। কাজেই পরে তারা যে নকশা দাখিল করেছে, সেটা সঠিক নয়।

মূল অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে তারা এই ভবন নির্মাণ করেছে।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘সেই সময় রাজউকের যে চেয়ারম্যান ছিলেন ও কর্মকর্তা ছিলেন আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এই নকশা অনুমোদনের সময় কোনও ব্যত্যয় ঘটেছে কি না ও মূল নকশা ছাড়া এটা তৈরি করা হয়েছে কি না। হয়ে থাকলে এর সঙ্গে যারা জড়িত, সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

ঢাকার অন্য ভবন যেগুলো এবাবে নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ, তিনি যেই হোন না কেন, যত শক্তিশালী ব্যক্তি হোন না কেন, এই জাতীয় মর্মান্তিক ঘটনা যে নরপিশাচরা টাকার লোভে ঘটায় তাদেরকে সর্বোচ্চ আইনি আওতায় এনে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার দ্রুত গতিতে আমরা সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব প্রকৌশলী এই ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং প্রয়োজনে এই ইমারত ভেঙে ফেলা হবে।’