চট্টগ্রাম, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে ইতিহাস লিখল পানামা

প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০১৯ ১০:৩১ : পূর্বাহ্ণ

কখনো কখনো বাস্তবতা কল্পনাকেও হার মানায়। পুঁচকে কোনো দলও লিখে ফেলে রূপকথার গল্প। শনিবার রাতে পর্তুগালের ক্লাব এফসি পোর্তোর মাঠ এস্তাদিও ডু দ্রাগাওতে রূপকথার গল্পই লিখল পানামা।

তবে রূপকথার গল্পটা পূর্ণাঙ্গ হয়নি। দৈত্য ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি পুঁচকে পানামা। ১-১ গোলে ড্র করেছে। তাতেই অবশ্য ইতিহাস লিখে ফেলেছে মধ্য আমেরিকার দেশটি। এই প্রথম ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করল পানামা। আর সেই গোলেই আঁকা হয়ে গেল ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম ড্র।

আগের দিন লিওনেল মেসির প্রত্যাবর্তন ম্যাচে ভেনেজুয়েলার কাছে ৩-১ গোলে হেরে গেছে আর্জেন্টিনা। নেইমারবিহীন ব্রাজিল হারেনি। তবে ড্র’টা এক অর্থে ব্রাজিলের জন্য হারেরই সমান। হতাশাটা কোনো অংশে কম নয়।

অধিনায়ক নেইমারসহ ব্রাজিল স্কোয়াডে নিয়মিত খেলোয়াড়দের অন্তত ১০ জন চোটের কারণে দলের বাইরে। তারপরও ম্যাচের আগে জয়ের ছবিই এঁকেছিলেন ব্রাজিল কোচ তিতে। পানামার বিপক্ষে আগের ৫ সাক্ষাতেই জয়। সেই ৫ ম্যাচে পানামা কোনো গোলই করতে পারেনি। সেই পানামার বিপক্ষে ব্রাজিল কোচের জয় আশার ছবি আঁকাটা বাস্তব সম্মতই ছিল। কিন্তু পোর্তোর মাঠে ঘটে অন্য বাস্তব।

কালও ব্রাজিলই প্রথম এগিয়ে যায়। ৩২ মিনিটে সেলেকাওদের এগিয়ে দেন এসি মিলানের মিডফিল্ডার লুকাস পাকুয়েতা। অধিনায়ক নেইমারের অনুপস্থিতিতে যিনি খেলতে নেমেছিলেন ১০ নম্বর জার্সি পরে। পেলে-নেইমারদের ১০ নম্বর গায়ে চাপানোর মর্যাদা তিনি রেখেছেন জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করে।

রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার কাসেমিরোর দুর্দান্ত ক্রস। বক্সের বাঁ-প্রান্ত থেকে প্লেসিং করেন পাকুয়েতা। তার শট পানামার গোলরক্ষকের হাতে লেগে ঢুকে যায় জালে।

ব্রাজিল অবশ্য এই গোল-আনন্দ ধরে রাখতে পেরেছে মাত্র ৪ মিনিট। ৩৬ মিনিটেই পানামার অধিনায়ক আদোলফো মাচাদোর হেড খুঁজে নেয় ব্রাজিলের জাল। এরিক গ্রাভিসের ফ্রি কিক থেকে করা এই গোল নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। রিপ্লেতে পরিস্কার, মাচাদো অফ সাইড ছিলেন। কিন্তু সহকারী রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। তাতেই কপাল পুড়েছে ব্রাজিলের। ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে পানামার।

নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেন ফিলিপে কুতিনহো। কিন্তু বার্সেলোনা তারকা জাতীয় দলের জার্সি গায়েও নিজেকে মেলে ধরে পারেননি। বরং নিষ্প্রভতায় ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে কাটানো দুঃসময়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন!

প্রথমার্ধে যেমনই হোক। দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি প্রাধান্য বিস্তার করে ব্রাজিল। আক্রমণও গড়েছে একের পর এক। কিন্তু জয়সূচক গোল আর পায়নি। জিততে হলে ভাগ্যও লাগেও। কাল ব্রাজিল সেই ভাগ্যের সহায়তা পায়নি। বরং ভাগ্যদেবী যেন ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।

অফসাইড গোল হজম করার কষ্ট তো আছেই। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের একাধিক শটও প্রতিহত হয়েছে বারে-পোস্টে লেগে। ভা্গ্যদেবী একটু সদয় হলেই এই শটগুলোর যেকোনো একটি গোলে পরিণত হতে পারত। ব্রাজিলের প্রতি সদয় হবে কি করে, কাল যে ভাগ্যদেবী পানামাকে হাসানোর পণই করেছিলেন!

বাস্তবতা মেনে নিয়ে ব্রাজিল কোচ তিতের দৃষ্টি আগামী মঙ্গলবারের ম্যাচের দিকে। সেদিন আরেকটি প্রীতি ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে চেক প্রজাতন্ত্রের।