চট্টগ্রাম, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

যানজট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মধ্যরাতে স্থবির

প্রকাশ: ২৩ মার্চ, ২০১৯ ১০:১৭ : পূর্বাহ্ণ

দেশের ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক যাতায়াত মাধ্যম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টানা দুই দিন যাবত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ যানজট শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত বড় আকার ধারণ করে।

দুই দিনের দীর্ঘ এ যানজটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ সময় বেশি বয় করেও পৌঁছানো যাচ্ছে না গন্তব্যস্থলে।

শুক্রবার রাত ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া পেরিয়ে মেঘনা সেতু এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

এর ফলে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ার কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই মহাসড়কে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।

নির্মাণাধীন ২য় মেঘনা ও গোমতী সেতু এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় রাতভর যানজট ছিল। শুক্রবার ভোর থেকে যাত্রী, পণ্যবাহী ও প্রাইভেট গাড়ি চলাচল বাড়তে থাকে।

তাই মেঘনা ও গোমতী সেতু কেন্দ্রীক যানজট দেখা দেয় যেটি অব্যাহত আছে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে ও বিকেলে মহাসড়কের দাউদকান্দি-গৌরীপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ যানজটের কারণে যাত্রীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে ছোট ছোট শিশুদের কাধে ও কোলে নিয়ে মালামালসহ ভারি ব্যাগ মাথায় নিয়ে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যায় গন্তব্যের দিকে।

এ সময় মহাসড়কে থেমে থাকা বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা জানায়, গৌরীপুর থেকে ঢাকা যেতে ৮/১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। সেই সাথে তীব্র গরমে যানজটে আটকা পড়ে সিমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কিন্তু শুক্রবারের বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা কাটিয়ে মধ্যরাতেও লেগে থাকা এ যানজট যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রী ও রোগী বহনকারী যানবাহনগুলোকে পড়তে হয় চরম বিপাকে।

যানজট নিরশনে হাইওয়ে পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চার লেনের গাড়িগুলো দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুতে গিয়ে একমুখী হওয়ায় যান চলাচলের গতি কমতে থাকে। একটা পর্যায়ে গিয়ে তা যানজটে রূপ নেয়।

মহাসড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।