চট্টগ্রাম, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

শাটল ট্রেনে সম্প্রীতির উদ্যোগ: ‘অর্ধেক বসে অর্ধেক দাঁড়িয়ে যাই’

প্রকাশ: ১৮ মার্চ, ২০১৯ ১০:০৩ : পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পরিবহন সংকট দীর্ঘদিনের। ছাত্রছাত্রীদের জন্য একমাত্র পরিবহন ব্যবস্থা শাটল ট্রেনে অপর্যাপ্ত বগি ও সিটের কারণে যাত্রাপথে শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। এই দুর্ভোগ প্রশমনে আবারও নেওয়া হয়েছে সম্প্রীতির উদ্যোগ- ‘অর্ধেক পথ বসে অর্ধেক দাঁড়িয়ে যাই- সম্প্রীতি বাড়াই’। এই উদ্যোগ কোনো সংগঠন কিংবা কর্তৃপক্ষের নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

শনিবার (১৬ মার্চ) রাতের শাটলে এ রকম একটি উদ্যোগের বার্তা পাওয়া গেছে। এর আগেও এ ধরনের উদ্যোগ দেখা গেছে। কিন্তু ফল হয়নি। তবে এবার ছাত্রলীগসহ শাটল-সংক্রান্ত একটি সংগঠন সমর্থন জানিয়েছে এর প্রতি।

শাটলে টাঙানো পোস্টারে রয়েছে অর্ধেক পথ অতিক্রমের পর দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর জন্য সিট ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান: ‘শাটলে অর্ধেক পথ বসে, অর্ধেক পথ দাঁড়িয়ে যাই, সম্প্রীতি বাড়াই। আমরা চবিয়ান ভাই ভাই, এই পরিবর্তনটি চাই্।’

কে বা কারা এই উদ্যোগ নিয়েছে তার কোনো উল্লেখ নেই পোস্টারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ থাকে চট্টগ্রাম নগরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান জেলা শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু পরিবহন ব্যবস্থা অপ্রতুল।

১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নগর-চবি শাটল সার্ভিস চালু করা হয়। ৯টি বগি নিয়ে দুটি শাটল এবং একটি ডেমু ট্রেন নয়বার যাওয়া-আসা করে এই রুটে। কিন্তু অনেক দিন ধরে নানা অজুহাতে সাতটি থেকে আটটি করে বগি দিচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

২০১৮ সালের বাজেট অধিবেশনে উল্লেখ করা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা ২৭ হাজার ৮৩৯ জন। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ হাজার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শাটল ও বগি বাড়ানো হচ্ছে না। সিট না পেয়ে অনেককেই এই দীর্ঘপথ দাঁড়িয়ে পারি দিতে হয়। এর প্রতিকারে এমন উদ্যোগ খুবই ফলপ্রসূ হতে পারে।

পোস্টারটিতে উদ্যোগ গ্রহণকারীদের নাম না থাকলেও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে এই প্রতিবেদক খোঁজ পান তাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের হাসান মেহেদি, নেয়ামত উল্লাহ, তামজিদুল ইসলাম অভিসহ বেশ কয়েকজন শাটলে টানানো পোস্টারগুলোর উদ্যোক্তা।

হাসান মেহেদি বলেন, ‘শাটলে সিট ধরার মতো অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখে মনে হয়েছিল এটি অমানবিক এবং চবির শিক্ষার্থীদের মাঝে ঐক্যের অভাব। সেই থেকেই একটা ভাবনা আসে এ রকম উদ্যোগ নিলে ঐক্যটা বাড়বে। পাশাপাশি দুর্ভোগও লাঘব হবে কিছুটা।’

গত বছর বন্ধুরা মিলে প্রায় ৬০০ পোস্টার লাগিয়েছিলেন তারা। কিন্তু কে বা কারা সেগুলো ছিঁড়ে ফেলে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এই ইস্যুটা নিয়ে আলোচনা দেখে হাসান মেহেদিরা বুঝতে পারেন এটি এখনো সম্ভব। তাই আবার সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে শাটল ও বগির অপর‌্যাপ্ততার কারণে চালু হয় সিট ধরার সংস্কৃতি। এতে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। একপর্যায়ে শাখা ছাত্রলীগও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় এনে দীর্ঘদিনের বগি রাজনীতির ইতি টানে। আর গত বছরের আগস্টে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একটির বেশি সিট ধরা সংস্কৃতি বন্ধ হয়।

ওই বছরের ১৩ আগস্ট আরেক শাখা ছাত্রলীগের একাংশের সমর্থনে ১৪ কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘শাটল শৃঙ্খলা কমিটি’। শাটলে সিট ধরা বন্ধ, বহিরাগত যাত্রী রোধসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। কিন্তু সিট না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর ভোগান্তি থেকেই যায়।

তাই ‘অর্ধেক পথ বসে অর্ধেক দাঁড়িয়ে যাই- সম্প্রীতি বাড়াই’ আহ্বানকে স্বাগত জানাচ্ছে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগ সমর্থিত শাটল শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘শাটলের বগি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচি পালন করলেও তা সফল হয়নি। যেহেতু শিক্ষার্থীর তুলনায় শাটলের সিট অনেক কম, তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এতে শাটল শৃঙ্খলা কমিটি এবং শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’ এমন উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।