চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯

মিরসরাইয়ে বন বিভাগের বাধায় সংযোগ পাচ্ছেন না আদিবাসীরা

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৬ ২০:৩৪:৩৪ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৭ ০৯:১১:২০

এম মাঈন উদ্দিন

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩ ও স্থানীয় বন বিভাগের দ্বন্দ্বে বিদ্যুত বঞ্চিত মিরসরাইয়ের দুটি ইউনিয়নের দুই শতাধিক আদিবসী পরিবার। খাম্বা (খুটি), সার্ভিস তার স্থাপন করা হয়েছে ২ বছর আগে। ঘরে ঘরে অয়ারিংও সম্পন্ন। তবুও সংযোগ পাচ্ছেন না এখানকার আদিবাসী পাড়ার ৭৭টি পরিবার। অপরদিকে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পাহাড়িয়া অঞ্চল মধ্যম তালবাড়িয়ায় কয়েকটি খুটি স্থাপনের পর আর খুটিই স্থাপন করতে দেয়নি স্থানীয় বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

এখানকার ত্রিপুরা আদিবাসীরা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলার পরও কোন কাজ হচ্ছেনা।

গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর জালানী উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী বলেছেন, ভোটার আইডিকার্ড যার কাছে আছে, তিনি বিদ্যুতের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং বিদ্যুত পাবেন। মিরসরাইয়ের আদিবাসীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটিও পালন করা হচ্ছে না। যদিও এখানকার আদিবাসীরা বংশ পরম্পরায় এখানকার পাহাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ও ভোটার।

করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখিল আদিবাসী ত্রিপুরা পাড়ার ঊষা ত্রিপুরা, হরি ত্রিপুরা, রামপ্রসাদ ত্রিপুরা, দয়াল ত্রিপুরা জানান, সরকারি সকল নিয়ম মেনে তারা বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেন। এসময় যাবতীয় সকল কাগজপত্র ও তথ্য প্রমাণাধি সংযুক্ত করা হয়। প্রতিটি মিটারের জন্য ৪৫০ টাকা করে সমূদয় টাকা তুলে রাখা হয়। এরপর বিদ্যুৎতায়নের লক্ষ্যে খুটি (পিলার) বসানো ও সার্ভিস তার টানানো হয় প্রতিটি ঘরে। প্রতিটি ঘরে পল্লীবিদ্যুতের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ানের মাধ্যমে অয়ারিংয়ের কাজও সম্পন্ন করেন গ্রাহকরা। এরপর বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায় দ্রুতই সংযোগ প্রদান করা হবে। কিন্তু পরে মিরসরাই পল্লী বিদ্যুত অফিস কর্তৃপক্ষ জানায় সংযোগ চালু করা যাবে না। কারন হিসাবে তারা জানান, বন বিভাগের আপত্তির কারনে আদিবাসী পাড়ায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়া যাবে না। বিষয়টি নিস্পত্তি হওয়া পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে। সেই থেকে দুই বছর শেষ হয়েছে। কিন্তু অপেক্ষার পালা আর শেষ হচ্ছে না।

শুভ ত্রিপুরা, শান্ত ত্রিপুরা, পদ্ম ত্রিপুরা, কুশল ত্রিপুরা, সুশীল ত্রিপুরাসহ আদিবাসীরা জানান, এটা আমাদের বাপদাদার ভিটা। আমাদের বাপদাদারা এখানে জন্মগ্রহণ করে বড় হয়েছেন। অনেকে মারাও গেছেন। প্রায় শত বছরের এই ভিটা কি করে ফরেস্টের হয়?

মিরসরাই মধ্যম তালবাড়িয়া ত্রিপুরা আদিবাসী পাড়ার রোয়াজা (গ্রাম প্রধান) সুরেশ ত্রিপুরা জানান, পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার কয়েকটি খুটি লাগানোর পর বন বিভাগের বাঁধার মুখে আর খুটি (পিলার) লাগাতে পারেনি। তিনি বলেন, এখানে দুটি পাড়ায় ১২৮টি পরিবারের বসবাস। তারা ভোটার। তিনি সরকারের কাছে আবেদন করেন যেন তাদেরকে দ্রুতই বিদ্যুত সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়।

এই বিষয়ে করেরহাট বনবিভাগের এসিএফ (সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, আদিবাসীরা বন বিভাগের অবৈধ দখলদার। আবার বলেন, তারা বনবিভাগের ভিলেজার। আদিবাসীরা বন বিভাগের বনায়নসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতো। ওটা বন বিভাগের জায়গা দাবি করে তিনি বলেন, সেখানে বিদ্যুত দেয়া যাবেনা। ওই পাড়ায়তো কোনো সংরক্ষিত বন নেই, অবৈধ দখলদার হিসাবে তাদেরকে কোন নোটিশ দেয়া হয়েছে কী না এই দুটি প্রশ্নের কোন উত্তর তিনি দেননি। পরে তিনি বলেন, ওপরের নির্দেশে বিদ্যুতায়নে আপত্তি জানিয়েছি। আবার নির্দেশ পেলে বিদ্যুতায়ন করতে দেয়া হবে।

এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জিএম শাহ জুলফিকার হায়দার প্রিন্স মুঠোফোনে জানান, চট্টগ্রামের জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বন বিভাগ থেকে জোর আপত্তি জানানো হয়েছে বিদ্যুত সংযোগ যেন না দেয়া হয়। তারা বলছেন এটা রিজার্ভ ফরেস্ট। জিএম জুলফিকার আরো বলেন, গত ৩দিন আগে ঢাকায় এ ব্যাপারে সভা হয়েছে। আশা করছি কোন ভালো সংবাদ পাবো। আদিবাসী পাড়া গুলোতে বিদ্যুত সংযোগ না দিলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবেনা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর সভাপতি মো. আলী আহসান বন বিভাগের আপত্তির কারণে আদিবাসী পরিবারগুলো বিদ্যুত পাচ্ছেন না বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বিদ্যুত বঞ্চিত পরিবারগুলো দ্রুত বিদ্যুত যেন পায় সে বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।