চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৬ ১১:১২:০০ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৬ ১৯:৩৮:১৫

২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ১ শতাংশ কাজ’ও এখন শেষ হয়নি। শুধুমাত্র সাগরের তীর ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে রাস্তা। দর্শনার্থী বসার জন্য বানানো হয়েছে কিছু আসন। আর তাতেই প্রতিদিন লাখো দর্শনার্থী ভিড় করছেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। আগামী দু’বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পতেঙ্গা দেশের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা সিডিএ চেয়ারম্যানের।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের মাত্র তিন বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে সরকারের তিনটি মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার কর্ণফুলী নদীর তলদেশের টানেল, আড়াই হাজার কোটি টাকার আউটার রিং রোড এবং সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের ল্যান্ডিং পয়েন্ট। সেই সাথে শাহ আমানত বিমান বন্দর তো রয়েছেই।

তবে সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত হয়ে উঠেছে সকল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। মূলত বাস্তবায়নাধীন আউটার রিং রোডের জন্য নতুন করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি দর্শনার্থীথের সুবিধার্থে গড়ে তোলা হয়েছে বেশক’টি স্থাপনা। আর এসব দেখার জন্য লাখো দর্শনার্থীর ভিড় জমছে এখানে।

এক দর্শনার্থী জানান, আগের থেকে এখানে অনেক বেশি পরিবর্তন হইছে। সরকার অনেক বেশি উন্নয়ন করছে দেখার মতো।

প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। সূর্যাস্ত দেখার জন্য সুযোগ রয়েছে এখানে, তেমনি স্পিডবোটে চড়ে চলে যাওয়া যায় সাগরের অনেক গভীরে। তবে এখন পর্যন্ত পর্যটকবান্ধব কোনো কাঠামো গড়ে না ওঠায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় দর্শনার্থীদের।

এক দর্শনার্থী জানান, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে একটু সচেতন হয়া উচিত এবং নিরাপত্তার বিষয়টি একটু দেখা উচিত।

আরেক দর্শনার্থী জানান, শৃঙ্খলা আনতে হবে। যেমন দোকানগুলো একসাথে রাখতে হবে। মানুষের হাঁটার রাস্তা ভিন্ন থাকবে।

ভিড় সামলানোর পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সৈকতের প্রবেশ মুখে বসানো হচ্ছে পুলিশ ক্যাম্প।

পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ উৎপল কুমার বড়ুয়া বলেন, শিগরিই আমরা এখানে একটি পুলিশ ক্যাম্প তৈরি করবো। কোন দর্শনার্থী যদি সমস্যায় পড়ে, তাহলে যেন আমাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা নিতে পারে।

এখানে চাইল্ড জোনের পাশাপাশি থাকবে টুরিস্ট ট্রেন, কেবল কার এবং ক্রুজ।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, বিশ্বমানের বিনোদনের জন্য যেরকম সুযোগ সুবিধা দিতে হয়, এই সাগর পাড়ে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আমরা চিহ্নিত করেছি, আমরা ডিজাইন করছি।

এ প্রকল্পে নেভাল থেকে চরপাড়া পর্যন্ত হাঁটার জন্য ৬ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হবে।