চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা: এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪৯

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৫ ১৪:৫৮:৪৪ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৫ ১৯:২৩:২০

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ এ দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ২০ জন।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন হামলায় ৪৯ জন মারা গেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২ জন বাংলাদেশী নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন বলেছেন এই ঘটনা তার দেশের ইতিহাসের ‘অন্ধকারতম অধ্যায়’গুলোর একটি।
পুলিশ বলছে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ অন্তত চারজন তাদের জিম্মায় রয়েছে

পরবর্তী ঘোষণা আসা না পর্যন্ত ওই এলাকার সব মসজিদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে- এ ঘটনায় একজন নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আরডের্ন বলেন, “আমাদের মনে হচ্ছে এই সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।”

মসজিদে গুলি চালানোর দৃশ্য ‘লাইভ’ করে হামলাকারী

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের মসজিদে হামলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছে হামলাকারী। প্রায় ১৭ মিনিট সেই দৃশ্য সম্প্রচার করে সেই ব্যক্তি।

সেই ভিডিওচিত্রে দেখা যায় হামলাকারী গাড়িতে চড়ে আল নূর মসজিদে আসে। তারপর, মসজিদ থেকে একটু দূরে গাড়ি রেখে সেই গাড়ির পেছন রাখা দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটি হাতে তুলে নেয়।

এরপর, সে অস্ত্র হাতে হেঁটে পার হয় মসজিদের আঙ্গিনা। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে সে ব্যক্তি মুসল্লিদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। গুলি চালানোর সময় কয়েকবার তাকে বন্দুকে গুলি ভরতেও দেখা যায়।

কয়েক মিনিট পর মসজিদ থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসেও এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়েন তিনি। রাস্তায় রাখা গাড়িতে ফিরে এসে তিনি আরও গুলি সঙ্গে নেন। মসজিদে আবার ফিরে যাওয়ার আগে তিনি রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে গুলি ছোড়েন।

মসজিদে ঢুকে হামলাকারী জীবিতদের খুঁজে বের করে আবার গুলি চালাতে থাকেন।

মসজিদ থেকে বের হয়ে রাস্তায় থাকা এক নারীকে গুলি করেন সেই ব্যক্তি। এরপর গাড়ি চালিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়েন হামলাকারী।

খবরে প্রকাশ- জুমার নামাজ আদায় করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্য মসজিদে ঢুকতে গিয়েই দেখতে পান রক্তাক্ত শরীরে বেরিয়ে আসছেন এক নারী।

তিনি তখন তামিম ইকবালদের বলেন, “ভেতরে যেও না, ভেতরে গোলাগুলি”। আর পাঁচ-দশ মিনিট আগে পৌঁছালেও সেই গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যেতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

প্রথমদিকে, ভিডিওটি বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রচার করলেও পরে এর প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

শহরের পরিস্থিতি

ক্রাইস্টচার্চের সব স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা একজন বন্দুকধারীর হাত থেকে নিজেদের জীবন বাঁচার জন্য প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছিলেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহন ইব্রাহীম নামে একজন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড সংবাদপত্রকে বলেছেন, “শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এটা হয়তো বৈদ্যুতিক শকের কোনও ব্যাপার, কিন্তু একটু পরেই সবাই দৌড়াতে শুরু করলো”।

“এখনো ভেতরে আমার বন্ধুরা রয়েছে” এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি আমার বন্ধুদের ডাকতে থাকি কিন্তু সেখানে অনেকেই আছে, কারও কথা শুনতে পারিনি। আমার বন্ধু বেঁচে আছে কি-না সেটা নিয়ে আমি আমি ভীত।”

শহরতলীর লিনউড এলাকার আরও একটি মসজিদ থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ক্যাথেড্রাল স্কয়ারে হাজার খানেক শিশুর জলবায় পরিবর্তন মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে শোভাযাত্রা হওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা সর্বশক্তি নিয়ে কাজ করছেন। পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হতে এবং রাস্তায় নামতে নিষেধ করা হয়েছে।