চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

স্বজন হারাবার বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৪ ১৯:০৭:৪৮ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৫ ০৯:৩৮:৫৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমাজের আর্তপীড়িত মানুষের মানবসেবা ও নারী শিক্ষা উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা রায় বাহাদুররা দেশে ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তারা আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্ত তারা আজও আমাদের মাঝে আদর্শের প্রতীক হয়ে আছেন।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান ও কুমুদিনীর ৮৬তম বর্ষপূতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণ পদক দেয়া হয়।

চার স্বর্ণ পদক পাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন- পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), নজরুল গবেষক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহবুদ্দীন আহমেদ। সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে কবির নাতনি খিলখিল কাজী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, আপনজনদের হারানো যে কত ব্যথা তা আমি বুঝি। আপনজনদের হারিয়েও আমি দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমার মতো আপনজন হারানো কুমুদিনী পরিবার। আপনজনদের হারিয়েও তারা যে সেবার কাজ করে যাচ্ছেন এটা অনন্য এক দৃষ্টান্ত। তাদের এ প্রতিষ্ঠান যেন যুগ যুগ টিকে তাকে সেজন্য সকল ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমুদিনী কমপ্লেক্সের মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কুমুদিনী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বলয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানান।

এরপর ভারতেশ্বরী হোমসের মাল্টিপারপাস হল এবং ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট নার্সিং কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তরসহ ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের শিক্ষা পরিচালক প্রতিভা মুৎসুদ্দির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক শ্রীমতি সাহা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা ও প্রতিভা মুৎসুদ্দি।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা, দীপু মনি, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. একাব্বর হোসেন এমপি, নাগরপুরের সাংসদ মো. আহসানুল হক টিটু, বাসাইল-সখীপুর আসনের সাংসদ এ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জহের, ঘাটাইলের সাংসদ মো. আতাউর রহমান খান, ভুয়াপুর-গোপালপুর আসনের সাংসদ তানবীর হাসান ছোট মনির এবং টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি জননেতা মো. ফজলুর রহমান খান ফারুক প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, মানবতাধর্মী কাজে ব্যাপক অবদান রাখায় রণদাপ্রসাদ সাহাকে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ‘রায় বাহাদুর’ খেতাব প্রদান করেন। তিনি তার মা কুমুদিনী দেবীর নামে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ১৯৪২ সালে তার প্রপিতামহী ভারতেশ্বরী দেবীর নামে ‘ভারতেশ্বরী বিদ্যাপীঠ’ স্থাপন করে ঐ অঞ্চলে নারীশিক্ষার সুযোগ করে দেন যা পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালে ভারতেশ্বরী হোমস-এ রূপলাভ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে পাকহানাদার বাহিনী রণদা ও তার ২৬ বছর বয়সী সন্তান ভবানীপ্রসাদ সাহা (রবি)-কে তুলে নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ পর তারা বাড়ি ফিরে এলেও পুনরায় ৭ মে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের আর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।