চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

চার বছর ধরে তালাবদ্ধ দেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘর

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৩ ১০:১৪:০৬ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১৩ ১০:১৪:১৪

চার বছর ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘর। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত এই জাদুঘরটি এখন কেবল মাত্র ইতিহাস। রেলের শত বছরের ইতিহাস অনুসন্ধান আর প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করতে আসা মানুষদের কাছে রেলওয়ে জাদুঘরটি এখন সোনালী অতীত।

১২ একর জায়গায় গড়ে উঠা জাদুঘরের আশপাশ দখল হয়ে গেছে অনেক আগে। পাহাড় চুড়ায় ৪ বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে জাদুঘরের মূল ভবনটি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি সংস্কার এবং জনবল সংকটের কারণে চালু করা যাচ্ছেনা এটি।

সময়ের ব্যবধানে রেলওয়ে জাদুঘর এখন নানা অপকর্মের আখড়া। দিনের বেলায় যুবক যুবতীদের বেপরোয়া চলাফেরা আর রাতের বেলায় মাদক সেবী যৌনকর্মীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। জাদুঘরের তত্বাবধানে থাকা কর্মীরাও যেন অসহায়। নিরবে এসব অপকর্ম দেখে যাওয়া ছাড়া তাদের কোনো কাজ নেই। প্রতিবাদ করতে গেলে সহ্য করতে হয় অপমান, বঞ্চনা। এসব নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গেলে জাদুঘরের সামনে খেলারত দুই কিশোর জানান, আমরা এখানে প্রায়ই খেলতে আসি। আগে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা সফরে আসতো জাদুঘর দেখতে। বিকালে হাজার হাজার মানুষ আসতো। গত ৪ বছর ধরে জাদুঘর বন্ধ থাকায় এখন মানুষজন আসেনা। রাতের বেলায় এখানে মাদক ও নানা অসামাজিক কাজ হয় বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই কিশোর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাদুঘরের কেয়ারটেকার জানান, আমাদের বলার ও করার কিছুই নেই। এই প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি তো নিজের চোখেই দেখছেন ছেলেমেয়েরা কি অবস্থায় বসে আছে। এসববের প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের মারধর করা হয়।

রাতের বেলায় যৌনকর্মী আর মাদকসেবীদের উৎপাত সম্পর্কে কেয়ারটেকাররা বলেন, তারা এখানে চাকরি করেন। এসবের বিরুদ্ধে বলতে গেলে যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তারা হেনস্থা করে। তাই সব জেনেও কিছু বলতে চাননা তারা।

জাদুঘরের আশপাশ ঘুরে দেখা গেছে, বাংলোর মতো নানা কারুকাজে ভরা দ্বিতল ভবনটির বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়ছে, ভবনের বাইরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ মাঝ পথে এসে বন্ধ হয়ে আছে।

জাদুঘরের কেয়াটেকার জামাল জানান, জাদুঘরটি বন্ধ আজ চার বছর হলো। এর মধ্যে সীমানা প্রাচীর ও ভবনের ভেতরে কিছু সংস্কার কাজ হয়েছে। জাদুঘরের ভেতরে বারটি কক্ষ রয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, শত বছরের পুরোনো রেলওয়েতে বিভিন্ন সময় যন্ত্রপাতির পরিবর্তন এসেছে। কালের পরিক্রমায় রেলওয়ে এখন অনেক আধুনিক। রেলের প্রাচীন ঐতিহ্য, পুরোনো যন্ত্রপাতি, ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে মুলত রেলওয়ে জাদুঘরের উৎপত্তি।
জানা গেছে, রেলওয়ে জাদুঘরে ব্রিটিশ আমলের রেলের কিছু দুর্লভ সংগ্রহ, সেই সময়ে ছবিও স্থান রয়েছে। পুরোনো মনোগ্রাম, সিগন্যাল বাতি, ফ্যান, হর্ন, পতাকা, টেলিফোন, ঘণ্টা, চেয়ার টেবিল, বিভিন্ন সময় ব্যবহার করা রেল লাইনসহ অসংখ্য জিনিসপত্র রয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদ জানান, জনবল সংকটের কারণে রেলওয়ে জাদুঘর পুরনায় চালু করা যাচ্ছেনা। কবে নাগাদ চালু হতে পারে এ ব্যাপারেও তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।