চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

নুরকে ভিপি ঘোষণার পর ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১২ ০৭:৩১:৪৯ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১২ ১০:৪১:৪৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নুরর নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

এ সময় ভিপি পদে নুরের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হই চই শুরু করেন, তারা ভিপি পদের ফল না মানার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনা ও ব্যালট ছিনতাইকারীয়ের জন্য নুরকে দায়ী করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘এ ফলাফল মানি না, মানব না’ ‘নুরের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। এতে অডিটোরিয়ামে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও কর্মীরা বিক্ষোভ করেন।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, বিশ্বিবদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ সিনিয়র নেতারাও বিক্ষোভকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন।

নির্বাচনে ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হন নুরুল হক নুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

এছাড়া জিএস পদে ছাত্রলীগের কেন্দ্রী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

ডাকসু নির্বাচনের ২৫টি পদের একটি বাদে অন্যগুলোতে ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। শুধু সমাজসেবা সম্পাদক পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আখতার হোসেন জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে ২২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৩ জন।

এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন। এর বাইরে ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।