চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

আনোয়ারায় নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের রমরমা বাণিজ্য

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১১ ১৯:১৬:১৮ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১২ ১৪:৩৮:৪১

এস.এম.সালাহ উদ্দীন

সরকার সহায়ক গাইড বই ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ নিষিদ্ধ করলে ও আনোয়ারা গ্রাম-গঞ্জে বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড উচ্চমূল্যে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও শিক্ষকনেতা প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীদের নির্দিষ্ট পাঠ্যবই বাদ দিয়ে প্রকাশনা সংস্থার বই শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে পাঠ্যবই বানিয়ে বুকলিস্ট ছাত্রছাত্রীদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী।

জানা যায়, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি ও কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত বইয়ের বাইরে নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। একই ব্যক্তি একই বই একাধিক নামে বাজারজাত করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আনোয়ারায় প্রতিটি ইউনিয়নে একই অবস্থা। উপজেলার কিছু শিক্ষক নেতা, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারি শিক্ষক মোটা অঙ্কের কমিশনে নিম্নমানের গাইড কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন।এই সব গাইড বইয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংসের পাশাপাশি শিক্ষার মান ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে। এ উপজেলায় প্রায় ৫০টি লাইব্রেরি আছে। এসব লাইব্রেরিতে প্রায় শতাধিক প্রকাশনীর নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রি হচ্ছে অনায়াসে।

এ বিষয়ে নলেজ লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী বলেন, নিষিদ্ধ নোট-গাইড বিক্রির বিষয়ে আমাদের কাছে ছাত্র ছাত্রীরা চাই সেজন্য আমরা গাইড বিক্রয় করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে নোট বা গাইডগুলো ভালো সেগুলোই কিনতে বলা হয়েছে। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ আশ্চার্য্য বলেন, কোনো শিক্ষক বা সমিতির বিরোদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নোট বা গাইড কিনতে উৎসাহিত করলে প্রমাণসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহাম্মেদ বলেন, গাইড বই ক্রয় বিক্রয় মজুদ ও বাজারজাত নিষিদ্ধ। কেউ যদি নিষিদ্ধ নোট বা গাইড বাজারজাত করে, তবে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।