চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

আশা-আশঙ্কার ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১১ ১০:২৭:৫৬ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১১ ১১:১৯:২৭

সকাল ৮ টার কিছু আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ভোটকক্ষে উপস্থিত প্রার্থীদের সামনে ব্যালট বাক্স খুলে দেখিয়ে উপস্থিত সবার সামনে সিলগালা করেন

শুরু হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার ঢাকা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ২৮ বছর পর আজ সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে একযোগে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলবে বেলা ২টা পর্যন্ত।

সোমবার সকাল থেকে নিজ নিজ কেন্দ্রে জড়ো হতে শুরু করেন ভোটাররা। ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের লম্বা সারি লক্ষ্য করা যায়।

সকাল ৮ টার কিছু আগে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ভোটকক্ষে উপস্থিত প্রার্থীদের সামনে ব্যালট বাক্স খুলে দেখিয়ে উপস্থিত সবার সামনে সিলগালা করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিটি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া তথ্যানুসারে, এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ৪৩ হাজার ২৫৬ ভোটারের মধ্যে ১৬ হাজার ২৯২ জন নারী ভোটার এবং ২৬ হাজার ৯৬৪ জন পুরুষ ভোটার রয়েছেন।

ডাকসুর ২৫টি পদে বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রভাবে ২২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে- ভিপি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) পদে ২১ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ১৪ জন, এজিএস (সহ সাধারণ সম্পাদক) পদে ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেনন।

এছাড়াও হল সংসদ নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলের প্রতিটিতে ১৩টি করে পদে মোট ৫০৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ডাকসু নির্বাচনের ২৫টি পদে মোট ২২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ভিপি পদে ২১ জন, জিএস পদে ১৪ জন এবং এজিএস পদে ১৩ জন রয়েছেন।

পাশাপাশি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ জন করে, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রিড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন এবং ৮৬ প্রার্থী সদস্য পদে লড়ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ১৮টি আবাসিক হলে ৫০৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, “আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচনের জন্য যত ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি কোনো ধরনের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করে, তাহলে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার স্বার্থে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রক্টরিয়াল বডি তা নেবে”।

নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশও সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি গণমাধ্যমের ২জন করে প্রতিনিধি ভটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।