চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

এরা অর্বাচিন, ডাহা মিথ্যা বলে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০৮ ২০:২১:১৩ || আপডেট: ২০১৯-০৩-০৮ ২০:২১:২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে অনেকে অনেক রকম ব্যাখ্যা দেন। তখনকার ছাত্রনেতা এখন যারা জীবিত আছেন, আমি আজকেও একজনের ইন্টারভিউ দেখছিলাম। সেখানে কেউ নানাভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে দিচ্ছেন। আসলে এই ব্যাখ্যাগুলো শুনলে হাসি পায়, যে এরা আসলে কতটা অর্বাচিনের মতো কথা বলে।

শুক্রবার (৮ মার্চ) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) নাকি আগের দিন নিউক্লিয়াসের সঙ্গে আলোচনা করলেন। তো ভাষণে এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম- এখানে মুক্তির সংগ্রাম আগে বলবেন নাকি স্বাধীনতার সংগ্রাম আগে বলবেন সেটাও নাকি নিউক্লিয়াস আলোচনা করেছিল। এগুলো সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা। সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা, এর কোনো যৌক্তিকতাই নাই।

তিনি বলেন, যিনি বলেছেন উনি এটা বলতে পারেন, কারণ ওনার আবার একটা নিক নেইম ছিল- আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করতাম, তখন আমাদের নেতাদের একেকজনকে একেকটা টাইটেল দিতাম। এটা আমাদের একটা অভ্যাস ছিল। তার একটা টাইটেলও ছিল। এখন বলে ফেললে সবাই বুঝে যাবে- আপনারা টেলিভিশনে দেখে নিয়েন, সেটাই ভালো। আমি নাম বলতে চাই না।

শেখ হাসিনা বলেন, এই যে একেকজন একেকটা ব্যাখ্যা দেন, আসলে তো, তা নয়। হ্যা, ভাষণে যাওয়ার আগে অনেকেই দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন, অনেকে অনেক পয়েন্ট তৈরি করেছেন, অনেকে বলেছেন এটা বলতে হবে, ওইটা বলতে হবে, এভাবে বলতে হবে, সেভাবে বলতে হবে, এটা না বললে হতাশ হয়ে ফিরে যাবে। নানা ধরনের কথার মধ্যে আমরা জর্জরিত ছিলাম। কাগজে-কাগজে অনেক কাগজ আমাদের বাসায় জমা হয়েছিল। শেষ কথা বলেছিলেন আমার মা। যে কথাটি আমি সবসময় বলি। আমার মা একটা কথাই বলেছিলেন – ‘সারাটা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছো, তুমি জানো বাংলাদেশের মানুষ কি চায় এবং তার জন্য কি করতে হবে। তোমার থেকে ভালো আর কেউ জানে না। কাজেই তোমার মনে যে কথাটা আসবে, তুমি শুধু সেই কথাই বলবে আর কোনও কথা না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এই ভাষণে দেখবেন, এখানে কোনও পয়েন্ট নাই, কোনও কাগজ নেই। কারণ তিনি তো সংগ্রাম করে গেছেন সেই ১৯৪৮ সাল থেকে। তখন থেকেই তিনি বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি জানেন, যে মুক্তির পথটি কোথায়, কীভাবে আসবে। তিনি যেসব ব্যবস্থা করে গেছেন, সেটাও তিনি জানেন। সেভাবেই তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যা বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।