চট্টগ্রাম, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

পিস্তলটি খেলনা: সিআইডি

প্রকাশ: ৬ মার্চ, ২০১৯ ১:১৭ : অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটি খেলনা বলে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। পিস্তলটি পরীক্ষার জন্য সিআইডির কাছে জমা দিয়েছিলো মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় পিস্তলটি খেলনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর সেটির ব্যালাস্টিক পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ মত তদন্তকারী সংস্থার কাছে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) পিস্তলটি সিআইডি কার্যালয়ে জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।

জানতে চাইলে সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম বলেন, ‘একটা পিস্তল আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেই আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটা বাংলাদেশে প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা পিস্তল। যে কেউ খালি চোখে দেখলেই বুঝবে যে, এটা খেলনা পিস্তল। এরপরও যেহেতু এক্সপার্ট অপিনিয়ন লাগবে, সেজন্য পিস্তলের ব্যালাস্টিক পরীক্ষা হবে। দু’য়েকদিনের মধ্যে আমরা এক্সপার্ট অপিনিয়ন পাঠিয়ে দেব।’

এর আগে, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানও জানিয়েছিলেন, পিস্তলটি খেলনার।

বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘তদন্তের পরই পিস্তলটি খেলনা কিনা, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাবে।’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ (বোয়িং-৭৩৭) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বিকেলে ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। এসময় দু’জন কেবিন ক্রুকে জিম্মি করে রাখার কথাও বলা হয়।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তখন পাইলট-যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে নেওয়া হয়। শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার মধ্যে সন্ধ্যার দিকে মাত্র ৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে ছিনতাই কাণ্ডের অবসান ঘটে। অভিযানে ছিনতাইকারী নিহত হয়।

এই ঘটনায় সিভিল এভিয়েশনের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বাদি হয়ে সোমবার রাতে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০১২-এর ৬ ধারা এবং বিমান নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমন আইন, ১৯৯৭-এর ১১ (২) ও ১৩ (২) ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় নিহত যুবক পলাশ আহমেদ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের পর পলাশ দু’টি পটকার বিস্ফোরণ ঘটায়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পিস্তল ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুসহ বেশকিছু আলামত জমা দেয় র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো টিম।- সারাবাংলা