চট্টগ্রাম, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

ডাকাতি করে জীবন চালাচ্ছে জঙ্গি সংগঠন হুজি

প্রকাশ: ৪ মার্চ, ২০১৯ ৪:৪৮ : অপরাহ্ণ

অর্থ সংকটের কারণে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) এখন ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। ডাকাতির পরিকল্পনা করে হুজির সক্রিয় সদস্যরা আর তা বাস্তবায়ন করে ডাকাত দলের সদস্যরা। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দাদের বিশেষ অভিযানে ব্যাংক ডাকাতির প্রস্তুতি কালে ২ হুজি সদস্যসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (৪ মার্চ) দুপুর ১২ টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানান ডিএমপি’র যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- হাজিজ (হুজি), মামুনুর রশিদ (হুজি), ডাকাত মোফাজ্জল হোসেন মো. জহির উদ্দিন ভূইয়া, মো. আতিকুল রহমান, মো. মনিরুজ্জামান, লাড্ডু মোল্লা, কাইয়ুম শিকদার, আলাউদ্দিন শেখ, মুন্সি খসরুজ্জামান, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, সুব্রত দাস, মিন্টু কর্মকার এবং অলিউল্লাহ হাওলাদার।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ধোলাইপাড় মোড়স্থ পূবালী ব্যাংক ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছেছিলেন।

তারা আরও জানায়, এই ডাকাতির জন্য অস্ত্র দিয়ে অন্য একটি গ্রুপ সাহায্য করছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে রামপুরা এলাকাতে হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের ২ সদস্যকে আটক করে গোয়েন্দারা।

অভিযানে ২ হুজি সদস্যসহ ১৪ জন আটকের পাশাপাশি, ১২ জিহাদি বই, ২টি ৯ এম এম পিস্তল, ২ টা ৭.৫ এমে এম পিস্তল, ১টি এ কে -২২ বন্ধুকসহ মোট ৪১ রাউন্ড গুলি, ১০ কেজি গান পাউন্ডার, ৫টি মুখোশ, ২টি ধারালো অস্ত্র এবং তালা ও দরজা কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

এই ব্যাংক ডাকাতির সাথে হুজির কি সম্পর্ক জানতে চাওয়া হলে ডিএমপি’র যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন জানান, খালিদ ও মামুনুর রশিদ মূলত হুজি সদস্য। তারা পুনরায় হরকাতুল জিহাদকে সংগঠিত করার জন্য কাশিমপুরে জেলে এই জঙ্গি সংগঠনের উজ্জ্বলের (ফাঁসির আসামি) নির্দেশে কাজ করছিল।

তিনি জানান, আর এই অর্থ সংগ্রহের অংশ হিসাবে এই ডাকাত দলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল এবং তাঁদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। শুধু অস্ত্র নয়, কোথায় , কখন ডাকাতি করতে হবে তাও বলে দিত এই হুজি সদস্যরা। আর এই বিনিময়ে তাদের থেকে ৩০% অর্থ তারা বুঝে নিতেন।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত এই হুজি সদস্যদের অস্ত্র ও প্যালিং এর উপরে ভিত্তি করে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ০৯টি ডাকাতি করেছেন। আর ডাকাতি করা মোট অর্থের পরিমান প্রায় ৫ কোটি টাকা।

হুজিদের তো বিদেশ থেকে অর্থ আসে এ তথ্য আগে থেকে জানা গিয়েছিল। তাহলে কেন তারা ডাকাতি করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানান হয়, আগে একটা সময় অর্থ আসত। কিন্তু বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোঠার নজর দারির কারণে জঙ্গি সংগঠন গুলো অর্থ আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, কিন্তু এই হুজিসহ অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর অনেকেই জেলে আছে এবং অনেকের নামে মামলা আছে। এই মামলা গুলো চালাবার জন্য অর্থ প্রয়োজন হয় এবং তাদের সংগঠন চালাবার জন্যও অর্থ দরকার হয়। এজন্য তারা ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আর জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা , ডাকাতি মামল, সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।