চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

‘প্রকল্প শেষ হলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি’

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০২ ২৩:৪৪:১৬ || আপডেট: ২০১৯-০৩-০৩ ১৫:০৪:৪৪

চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলেই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড বিষয়ক’ মতবিনিময় সভা শেষে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, জলাবদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামবাসী কখন মুক্তি পাবে?

জবাবে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে প্রকল্পগুলো শেষ হলে। আগামী বর্ষাতে যাতে জলাবদ্ধতা ‍সৃষ্টি না হয় এবং ভোগান্তি না হয় তা আলোচনা হয়েছে। সিটি করপোরেশন কয়েকদিনের মধ্যেই শহরে একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করবে।

তিনি বলেন, সিডিএ চেয়ারম্যান এবং সিটি মেয়র চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রধান। তারা এখানে কাজ করেন। সামনে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা যেন না হয় সে লক্ষ্যে আজ বসেছি। দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী লক্ষ্য বড় হতে পারে তবে এ বর্ষায় যেন মানুষের কষ্ট না হয়। চলমান প্রকল্পগুলো যাতে আরো দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।

“কর্ণফুলী নদীর সাথে ৫৭টি খাল আছে। সবগুলো সংস্কার করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। যাতে বর্ষায় অতিমাত্রায় পানিতে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি না হয়।”

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। সেনাবাহিনী এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সিডিএকে সহযোগিতা করছে। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়।

তবে এই মেগা প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে নগরীর প্রধান খাল চাক্তাইসহ অন্যান্য খাল সংস্কারে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে খাল থেকে তলানির বর্জ্য উত্তোলন ও খাল খনন এবং খালে দুই পাড়ে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।

মোট ৩৬টি খাল খননের টার্গেট থাকলেও প্রাথমিকভাবে গত বছর থেকে চাক্তাই ও মহেশ খালসহ ১৬টি খালের সংস্কার কাজ চলছে।

পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এলআগে সিটি করপোরেশন প্রতিবছর খালের মাটি উত্তোলন করলেও সিডিএর প্রকল্প শুরু হওয়ায় এবার তারা সে কাজ আর করছে না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সিডিএ’র মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পরিস্কার দেখেছি তাদের সমন্বয় আছে।

এরআগে মত বিনিময় সভায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামবাসী যত সমস্যা আছে সব সমাধান করা হবে। কোনো সমস্যার কারণে বা কোনো মতগত পার্থক্যের কারণে আমরা আর পিছিয়ে থাকতে চাই না। সিডিএ চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ আপনারা দ্রত যে কাজগুলো করা দরকার তা চিহ্নিত করবেন। কিভাবে দ্রুত সমাধান করা যায় সেটাও বলবেন।

“আমরা সমস্যা চিহ্নিত করব, শেয়ার করবো এবং সমাধানের পথ খুঁজে নেব। আমার প্রত্যেকে ভিন্ন মানুষ, মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু লক্ষ্য এক। চট্টগ্রামকে সুন্দর দৃষ্টিনন্দন করবো। মহিউদ্দিন সাহেবের সময় চট্টগ্রাম ছিল সবথেকে সুন্দর শহর।”

সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম উপস্থিত ছিলেন, সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন।