চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯

মৃত্যুর পর আরো সুবিধা চায় পুলিশ

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০১ ২০:৪৭:৫১ || আপডেট: ২০১৯-০৩-০২ ০৮:৩৬:০৬

কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট-চাকরির পাশাপাশি ‘বিশেষ ভাতা’ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের হালিশহর পুলিশ লাইনে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ আয়োজিত সভায় এ দাবি জানান তারা।

একজন বেসামরিকের মৃত্যু এবং কর্তব্যরত অবস্থায় একজন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুকে এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে নগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, “কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলে বেসামরিকরা যে সুবিধা পায়, আমরাও তা-ই পাই, এটা হয় না। অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা ফ্ল্যাট-বাড়ি পায়, অনেক অনুদান পায়, বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। তাহলে কেন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পরে সরকার এগিয়ে আসবে না, বেসরকারি ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে না?”

তিনি বলেন, “আমরা যদি মনে করতে পারি যে, মারা গেলে সরকার আমাদের পাশে থাকবে, আমার পরিবার দুই মাসের মধ্যে একটা ফ্ল্যাট পাবে, তাহলে পুলিশ সদস্যরা হাজারগুণ বেশি মনোবল নিয়ে কাজ করবে, কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে।”

নগর পুলিশ কমিশনার বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশকে যেসব শক্তি আবার পেছনে নিতে চায়, তাদের আঘাতে যদি আমাদের মৃত্যু হয়, তাহলে কেন এই রাষ্ট্র আমাদের জন্য বিশেষ কিছু দেবে না? মনোবল শক্ত থাকলে কেউ আঘাত করতে পারবে না। আঘাত করতে আসলে প্রতিঘাত করা হবে। যারা অস্ত্র নিয়ে আসে, আইনের মাধ্যমে অস্ত্র দিয়েই তাদের মোকাবেলা করতে হবে। মাদক ও জঙ্গির বিরুদ্ধে সামনের দিনের লড়াইয়ে আমরা জীবন উৎসর্গ করতে রাজি আছি।“

সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, “পুলিশ ছাড়া অন্য কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন- হাসপাতালের একজন কর্মচারিও যদি কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যান, তাহলে তার পরিবার পায় ৮ লাখ টাকা। আর পুলিশ যদি মারা যায়, তাহলে পায় ৫ লাখ টাকা। এটা আমাদের প্রতি এক ধরনের অবিচার। এটা অত্যন্ত কষ্টের এবং দুঃখের।”

আইজিপি’র মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে ডিআইজি বলেন, “আমরা সমতা চেয়েছি। আমরা বলেছি- অন্যান্যরা যদি আট লাখ টাকা পায়, আমাদের পাওয়া উচিত ১০ লাখ টাকা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানতেন না যে, পুলিশকে এভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শুনে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন যে, পুলিশ এভাবে বঞ্চিত হতে পারে না।”

তিনি বলেন, “এই চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এই ধরনের আগুন সন্ত্রাসের ঘটনায় যারা মারা যাবেন, তাদের শুধু সরকারি সুযোগ-সুবিধা না, যত ধরনের রাষ্ট্রীয় খেতাব আছে সবগুলো দেয়া উচিত।”

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যদের গুলি করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তার লেখা দুইটি নিবন্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অনেকে আমার সমালোচনা করেছেন যে, আমি নাকি কথিত বন্দুকযুদ্ধকে জায়েজ করছি। আমার লেখার মধ্যে আমি বলতে চেয়েছি, একজন মাদক ব্যবসায়ী আপনাকে গুলি করছে, আপনি গুলি খাবেন নাকি প্রতিহত করবেন? প্রতিহত করতে গিয়ে যদি আপনাদের জীবন দিতে হয়, তাহলে জীবন রক্ষার জন্য আপনাদের প্রথম কাজ হচ্ছে তাকে গুলি করে মেরে ফেলা।”

সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক পুলিশ সুপার আলতাহ বক্স, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ, ব্যবসায়ী অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কুসুম দেওয়ান, ট্যুরিস্ট পুলিশের চট্টগ্রামের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। অনুষ্ঠানে কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যাওয়া ১৯ পুলিশ সদস্যের পরিবারের হাতে সম্মাননা ও সহায়তা তুলে দেন অতিথিরা।