চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

আর কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় নয়, নিরাপত্তা পরিষদে জানাল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-০১ ১৫:২৩:৩৮ || আপডেট: ২০১৯-০৩-০২ ০৯:৩০:৫৩

মিয়ানমার থেকে আর কোনো শরণার্থীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক। বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, প্রায় ১৮ মাস আগে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর নির্মম নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। ২০১৭ সালে আগস্টের শেষের দিকে রাখাইন অঙ্গরাজ্যে বিদ্রোহীদের হামলা চালানোর পরদিন থেকে শুরু হয় নৃশংস সামরিক অভিযান। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ অনেক দেশ ও সংগঠন ওই অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বৃহস্পতিবার সচিব শহিদুল হক রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে পরিষদকে জানাচ্ছি যে, মিয়ানমার থেকে আসা আর কোনো শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই বাংলাদেশ।

তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাবাসন আলোচনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাধা তৈরির অভিযোগ আনেন। সচিব বলেন, এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও যথাযথ পরিবেশ না থাকায় রাখাইনে যেতে ইচ্ছুক হয়নি।

এদিকে, মিয়ানমারের ভাষ্য ছিল, জানুয়ারি থেকেই তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করবে। কিন্তু রোহিঙ্গারা বলছে, ফিরে যাওয়ার আগে তারা তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি চায়।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখনও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

নিরাপত্তা পরিষদে সচিবের এই বক্তব্যে পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতও এই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার সমালোচনা করেন। তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার দিকে জোর দিতে বলেন। এছাড়া, রাখাইনে জাতিসংঘের অবাধ ও শর্তবিহীন প্রবেশের সুযোগ রাখার বিষয়েও মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের কথাও বলেন।

জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ক্যারেন পিয়ার্স নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে নিরাপদ বোধ করার মতো শর্ত বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি। এতে আমরা অত্যন্ত হতাশ।

জাতিসংঘে মার্কিন দূত ক্রিস্টিন স্ক্রানার-বারগেনার বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তাদের ওপর যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করা হয়েছে, সেটা এই শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। অথচ রাখাইনে জাতিসংঘের প্রবেশের সুযোগ একেবারেই সীমিত।

তবে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের পক্ষে প্রায় একই কথা বলেছে মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন ও রাশিয়া। চীনের উপরাষ্ট্রদূত উ হাইতাও বলেন, এই সংকটটি মূলত মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিবেশী বাংলাদেশের মধ্যেকার একটি বিষয়। তাই এ বিষয়ে সমাধান দুই দেশকেই বের করতে হবে। রাশিয়ার উপরাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পোলিয়ানস্কিও তার এই বক্তব্যে সহমত জানান।

এর আগে, গত ডিসেম্বরে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত নিয়ে যাওয়া ও মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে নিরাপত্তা কাউন্সিলে একটি খসড় রেজ্যুলেশণ উত্থাপন করে। তবে চীন ও রাশিয়া ওই আলোচনা বয়কট করে।