চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

উৎপাদনে যাচ্ছে দেশের বৃহৎ গ্রীণব্রিকস্ কারখানা ‘পিয়া’

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৮ ২১:০৫:৪৬ || আপডেট: ২০১৯-০৩-০১ ১১:৪৪:৩৮

টানেল কিলন্ নির্ভর প্রযুক্তির এ ব্রিকস্ কারখানা কমাবে দূষণ, এখানে গড়ে প্রতিদিন উৎপাদন হবে ১লাখ ২০ হাজার ইট

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দশ একর জমিতে গড়ে ওঠা দেশের সর্ববৃহৎ গ্রীণব্রিকস্ কারখানা ‘পিয়া অটোব্রিকস্ লিমিটেড’ আগামী মাসেই (মার্চ) উৎপাদনে যাচ্ছে। টানেল কিলন্ নির্ভর প্রযুক্তির এ ব্রিকস্ কারখানা কমাবে দূষণ। পরিবেশের সম্পূর্ণ সুরক্ষা রেখেই নির্মাণাধীন এ কারখানায় গড়ে প্রতিদিন উৎপাদন হবে ১লাখ ২০ হাজার ইট। যা অবদান রাখবে দেশের অর্থনীতিতে।

দেশের অর্থনীতির প্রাণ প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র এক কিলোমিটার পূর্বে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ঘড়িয়াইশ গ্রামে এর অবস্থান। দশ একর জমির ওপর নির্মাণাধিন এ প্রকল্পটির কাজ মাত্র এক বছর সময়ে শেষ হয়েছে। যা ইর্শণিয় অগ্রগতি বললে ভুল হবে না।

গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে পিয়া অটোব্রিকস্ লিমিটেড এর কারখানা পরিদর্শনে আসেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড (ইডকল) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহিদুল হক, জার্মান নাগরিক ইকারর্ড রিমপেল ও নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এর এ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার মো. মাহমুদুল আলম ভূঁইয়া। তারা পিয়া অটোব্রিকস্ কারখানার কাজের অগ্রগতি দেখে মুগ্ধ।

ইডকল এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহিদুল হক বলেন, ‘এক কথায় আমরা মুগ্ধ। দেশে এক সাথে চার চারটি গ্রীণব্রিকস্ কারখানা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তার মধ্যে পিয়া অটোব্রিকস্ কারখানা সবার আগে উৎপাদনে যাবে। আর এটি সম্ভব হয়েছে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন খানের দৃঢ়চেতা উদ্যোগের কারণে। তিনি আমাদের অর্থায়নের আগেই কারখানা নির্মাণের অধিকাংশ কাজ শেষ করেছেন।’

এ ধরণের গ্রীণব্রিকস্ কারখানা নির্মিত হলে পরিবেশ সুরক্ষা পাবে জানিয়ে ইডকল এর শীর্ষস্থানীয় এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের দেশে চিমনি নির্ভর ইটভাটাগুলোর কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। এ অবস্থায় পিয়া অটোব্রিকস্ কারখানাটি তৈরি হচ্ছে টানেল কিলন্ নির্ভর প্রযুক্তিতে। এটির কারণে দূষণ থেকে বাঁচবে পরিবেশ।’

ইডকল নিয়োজিত কনসালটেন্ট জার্মান রাগরিক ইকারর্ড রিমপেল (ঊপশযধৎফ জরসঢ়বষ) পরিদর্শন শেষে বলেন, ‘আমি ব্রিকস্ শিল্পের ওপর গবেশনা করছি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে। এখানে যা দেখলাম কাজের পরিবেশ এবং অগ্রগতি ভালো। সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’

একই দিন পরিদর্শন শেষে বেসরকারী আর্থিক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে এ ধরণের প্রজেক্ট আমি দেখিনি। এত অল্প সময়ে অনেকটা পুরোপুরি কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি আগামী মার্চে এটি উৎপাদনে যাবে। আমরা এ ধরণের আরো কয়েকটি প্রকল্পে অর্থায়ন করেছি। ওই প্রকল্পগুলো উৎপাদনে যেতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। পিয়া অটোব্রিকস্ কারখানা মাত্র এক বছর সময়ে উৎপাদনে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল), এবং বেসরকারি আর্থিক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড পিয়া অটোব্রিকস্ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থায়ন করছে। অর্থায়নে সমন্বয় করছে মেরিডিয়ান ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দেশী প্রতিষ্ঠান ইপিসি কর্পোরেশন। ডিজাইন, মেশিনারিজ ও যাবতীয় মালামাল সরবরাহ করছে চায়না প্রতিষ্ঠান বিবিটি।

সরকারি বেসরকারী সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় সনাতন পদ্ধতিতে ইট তৈরির বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করছে সরকার। ভূমি, পরিবেশ ও বায়ুমন্ডলের মারাত্মক ক্ষতি রোধ করতে গ্রীণ প্রজেক্টের আওতায় টানেল কিলন্ নির্ভর প্রযুক্তিতে ব্রিকস্ কারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া এ ধরণের প্রযুক্তি সম্প্রসারণে সরকার বাজেটে বরাদ্দও রেখেছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে থেকে শুরু হয় কারখানা নির্মাণের মূল কাজ। কারখানার পশ্চিমে স্থাপন করা হয়েছে প্রকল্পের অস্থায়ী সাইড অফিস, পূর্ব লেবার সেড। এসব স্থাপনার পাশে শোভা পাচ্ছে ফুলের বাগান আর নানা প্রজাতির সবুজ গাছ।

বাস্তবায়ানকারী প্রতিষ্ঠান ইপিসি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশেক এলাহি বলেন, ‘পিয়া অটোব্রিকস্ এর বাণিজ্যিক সম্ভানা প্রচুর। এখান থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার অদূরে দেশের সর্ববৃহৎ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। এখানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্টের জন্য প্রচুর ইটের চাহিদা থাকবে। দেলোয়ার হোসেন খান সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি উদ্যোক্তা হিসেবেও একজন আদর্শ উদ্যোক্তা।’

পিয়া অটোব্রিকস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন খান জানান, ‘কোন প্রকার হাতের ছোঁয়া ছাড়াই ৮০ ভাগ বালি আর ২০ভাগ পলিমাটির মিশ্রণে সম্পূর্ণ সয়ংক্রিয় মেশিনে পিয়া অটো ব্রিকস্ কারখানায় তৈরি হবে ২৭ রকমের উন্নত মানের ইট। পরিবেশ সুরক্ষা রেখে এ ব্রিকস্ কারখানায় প্রতিদিন এক লক্ষ ২০ হাজার ইট তৈরি হবে। বদলে যাবে দেশের উন্নয়ন কাজের মান আর স্থাপনা শৈলী হবে টেকশই ও নিরাপদ।