চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯

কর্ণফুলী তীরের উচ্ছেদ অভিযানে ‘ভাটা’

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৭ ১৬:১১:৫৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৮ ১০:০৭:২০

হাইকোর্টের নির্দেশনার অনেক বছর পর চট্টগ্রামের প্রাণ খ্যাত কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামে প্রশাসন। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর কর্ণফুলী নদীতে এটিই সমন্বিত পরিকল্পনায় বড় আকারের কোনো উচ্ছেদ অভিযান।

এ অভিযানের সুবিধার্থে অবৈধ স্থানকে তিনটি ধাপে ভাগ করে পুরোদমে শুরু করা হয় প্রথম ধাপের কর্মযজ্ঞ। টানা পাঁচ দিন ধরে চলা এই কর্মযজ্ঞে ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে ১০ কিলোমিটারেরও বেশি বেদখল ভূমি করা হয় দখলমুক্ত। প্রশাসনের এমন যৌথ অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেরিতে হলেও এবার কর্ণফুলী স্বরূপে ফিরবে বলে আশা করেছিলেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষসহ সংশ্নিষ্টরা।

কিন্তু হঠাৎ করেই উচ্ছেদ অভিযানে ভাটা পড়ায় তারা হয়েছেন হতাশ। প্রথম দফার উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম শেষ হওয়ার ১৮ দিন পর এখনও শুরু হয়নি দ্বিতীয় দফার উচ্ছেদ অভিযান। এর পেছনের নানা কারণ নিয়ে গুঞ্জন চলছে জনমনে। অবৈধ তালিকায় থাকা অনেকেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিজের দখল করা স্থান রক্ষা করার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযান যাতে আর চালানো না হয় সেজন্যও নানাভাবে তদবির চালাচ্ছেন। অভিযান শুরুর আগে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র তার উল্টো। জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে কর্ণফুলীর তীরে দুই হাজার ৩৭০ কোটি টাকা মূল্যের ১৫৮ একর ভূমিতে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে দুই হাজার ১৮১টি।

কর্ণফুলীর প্রথম দফার উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদ করা এলাকা পরিদর্শনে যান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। সে সময় তিনি পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। কিন্তু মন্ত্রীর সেই নির্দেশনা ১৮ দিন পরও বাস্তবায়ন হয়নি এখনও। উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগে থেকে পর পর্যন্ত কয়েকবার কর্ণফুলীর অবৈধ স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন ভূমিমন্ত্রী। সে সময় প্রত্যেকবারই তিনি বলেছিলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর দু’পাশে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সবক’টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। সরকারের চেয়ে বড় প্রভাবশালী আর কেউ হতে পারে না।’

উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে কথা বলতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের ফোনে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, অবৈধ স্থাপনার তালিকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর স্থাপনা রয়েছে। বন্দরের লিজ দেওয়া কয়েকটি স্থাপনাও রয়েছে উচ্ছেদের তালিকায়। কর্ণফুলীর তীরে গড়ে ওঠা বেশকিছু বড় স্থাপনাও রয়েছে, যারা প্রভাবশালী।

পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। অথচ বরাদ্দকৃত টাকার মাত্র ২০ লাখ টাকা পেয়েছি ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে।’ উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধে কোনো প্রেশার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নানাভাবে প্রেশার তো থাকবেই। তবে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলই ভালো বলতে পারবে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে ও পরে অনেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করতে রাস্তায় নেমেছিল। এখন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ। কিন্তু কেউ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার দাবিতে রাস্তায় নামেনি। তবে আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে।’

বর্তমানে প্রথম ধাপে উচ্ছেদ করা জায়গায় তারকাঁটার ঘেরা ও দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। সেইসঙ্গে পরবর্তী দুই ধাপের জরিপ ও সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ অব্যাহত আছে।- সমকাল