চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

পাক-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা, নিহত ৫

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৭ ১১:২৩:৩৬ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৭ ১৪:৪১:১৭

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় দেশটির ৪৯ সেনা নিহতের পরপরই উত্তেজনা শুরু। এক দেশ আরেক দেশকে দেখে নেওয়ার হুমকি পাল্টা হুমকি দিতে থাকে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার ভোররাতে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাকিস্তান সীমান্তে হামলা চালানোর দাবি করে ভারত। যদিও পাকিস্তান সে দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

ভারতের এ দাবির মধ্যেই মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কয়েকটি স্থানে ৫০টি মতো গোলাবর্ষণ করে পাকিস্তানি সেনারা। এতে কয়েকজন সেনা সদস্য আহত হওয়ার দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় সেনারাও জবাবে পাকিস্তান সীমান্তে গোলাবর্ষণ করেছে। এতে অন্তত চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। দেশটির গণমাধ্যম ডন এ খবর দিয়েছে।

তবে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, সীমান্তের শূন্যরেখায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভারি মর্টারশেল হামলায় দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছে গণমাধ্যমটি।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের ভেতর ভারত যে হামলার দাবি করে আসছে তাকে মিথ্যা দাবি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে ভারতীয় বিমান পাকিস্তান সীমান্তে ঢুকলেও দেশটির বিমানবাহিনীর সতর্ক থাকায় তারা (ভারতীয় বিমান) পিছু হটতে বাধ্য হয়।

আসিফ গফুর আরো বলেন, ভারত হামলার ব্যাপারে যে ভিডিও প্রকাশ করেছে তা আগে থেকেই ইউটিউবে ঘুরছে। তবে সীমান্ত লঙ্ঘনের কারণে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একটি সেনাবহরে হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মাদ। এতে ৪৯ সেনা নিহত ও ৪১ জন আহত হয়। সংগঠনটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হলেও ভারত দাবি করে যে, হামলায় ইসলামাবাদের মদদ রয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ নয়াদিল্লির ওই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

এর পরই থেকে ভারত পাকিস্তানে হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল। আর পাকিস্তান বলেছিল, ভিত্তিহীন অভিযোগে কোনো হামলা হলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানের ভেতর অপারেশন ‘এয়ার স্ট্রাইক’ চালানোর পর ভোরে পাকিস্তানের একটি ড্রোন ভারতের গুজরাট সীমান্তে প্রবেশ করে। পরে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো করতে দেখা যায়নি।

চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দুই দেশকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।