চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি হওয়া উচিৎ: ড.কামাল

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২২ ১৯:১৬:৪৭ || আপডেট: ২০১৯-০২-২২ ১৯:১৬:৫০

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হওয়া উচিৎ।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘যে কথা প্রায় সাবাই আন্তরিক ভাবে বলেছেন, যে আমাদের বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। তার মুক্তি এটা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত দাবি। খালেদা জিয়ার মুক্তি অবিলম্বে হওয়া উচিৎ। এই অনুষ্ঠান থেকে দাবিটা যাওয়া দরকার। এটা দুঃখজনক। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এই ধরনের দাবি আমাদের করতে হচ্ছে, যারা গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য ভূমিকা রেখেছেন।’

শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সু্প্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানীতে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল থেকে বিকেল প্রায় সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত চলে গণশুনানি।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটাকে নির্বাচন বলা যায় না, নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। আমরা বুঝতে পেরেছি এটা কোনো নির্বাচন হয়নি।’

এসময় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা মারা গেলে উত্তরসূরিরা আপনাদের নিয়ে লজ্জা পাবে। আপনারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন কী দেখছেন? আপনারা সংবিধান অমান্য করছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে পারি সেটা করতে হবে। যেনো স্বৈরারাচারকে সরাতে পারি। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

ড. কামাল বলেন, ‘কোনোদিন এদেশে স্বৈরাচার চিরস্থায়ী হতে পারেনি। আমরাও কোনোদিন স্বৈরাচার সরকারের শাসন মেনে নেইনি। এই সরকারও দীর্ঘদিন থাকতে পারবে না।’

শুনানিতে সারা দেশ থেকে আসা ৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচনের আগের ও পরের অবস্থা তুলে ধরেন।

এসময় শুনানির বিচারক হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ড. নুরুল আমিন বেপারী, অ্যাড. ড. মহসিন রশীদ, সাবেক বিচারপতি আ ক ম আনিসুর রহমান খান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

গণশুনানির শুরুতে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদিন, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরাম হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারসহ প্রার্থীরা।