চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

স্তব্ধ বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২১ ১৫:৫৯:০১ || আপডেট: ২০১৯-০২-২২ ০৯:২২:১৬

শুধু লাশ আর লাশ, একে একে চকবাজারের চুড়িহাট্টা আসছেন আর সেগুলো বুঝিয়ে নিচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ, কাউকে চেনার উপায় আছে, কাউকে কোনো ভাবেই চেনার উপায় নেই। বাড়ছে মানুষের ভিড়। য়জনের দগ্ধ অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তারা। এতে বার্ন ইউনিটের সামনে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের স্বজনের আহাজারিতে চকবাজার থেকে ঢামেক মর্গ পর্যন্ত হৃদয়বিদারক চিত্র। শুধু চকবাজার-ঢামেক নয়, এ ঘটনায় গোটা দেশই স্তব্ধ। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় শোকে কাতর পুরো জাতি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে দেখা যায়, শুধু লাশ আর লাশ। সারি বেঁধে লাশগুলো রাখা হয়েছে বারান্দায়। দেখে মনে হচ্ছে লাশ রাখার ঠাঁই হচ্ছে না হাসপাতালে। বেশিরভাগ নিহতের শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। চেহারা বোঝা মুশকিল। ডিএনএ টেস্ট ছাড়া লাশ শনাক্ত করা মুশকিল হয়ে পড়বে।

ভাই ও ভাইয়ের পাঁচ বন্ধুকে খুঁজতে চকবাজার থেকে ঢামেকে ছোটাছুটি করছেন ফিরোজ। অগ্নিকাণ্ডস্থলের আশপাশ এলাকায় খোঁজার পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও মর্গে ছোটাছুটি করছেন। গিয়েছিলেন মিটফোর্ড হাসপাতালেও। বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত তাঁদের কোনো খোঁজ পাননি ফিরোজ।

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফিরোজের সঙ্গে কথা হয়। ফিরোজ বলেন, গতকাল রাতে ওই ভবনের পাশে হায়দার মেডিকেল ডিসপেনসারিতে ফিরোজের ভাই হীরা পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ফিরোজ বলেন, তিনি জেনেছেন, আকস্মিক বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তাঁরা সবাই সেখানে আটকা পড়ে যান। হয়তো ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে মারা যান। স্থানীয় লোকজন বলেছেন, হায়দার মেডিকেল ডিসপেনসারি থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব লাশ এখন কোথায় আছে, কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। ফিরোজ তাঁর ভাই হীরার বাকি পাঁচ বন্ধুর নাম জানাতে পারেননি।

মো. সেলিম নামের একজন বন্ধু রেজাউল ইসলামকে খুঁজছেন। তিনি আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন সেলিম। আহত রেজাউল ওয়্যার হাউসে কাজ করেন। তাঁর বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে।

এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের মরদেহ বিক্ষিপ্তভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। এটি বাড়তেও পারে। নিহত ৭৮ জনের মধ্যে ৪১ মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন নারী, দুই শিশু ও ৩৭ জন পুরুষ।