চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯

কেউ যেন ভোটে অংশ না নেয়, এটা দলীয় সিদ্ধান্ত: রিজভী

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৭ ১৮:৩৪:২৭ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৮ ১০:২৬:৫১

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনসহ এই সরকারের অধীনে যেকোনও নির্বাচনে বিএনপির কেউ অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেছেন, ‘এ সরকারের অধীনে বিএনপির যেকোনও পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। যদি কেউ এটা অমান্য করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রবিবার (১৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘এই সিইসি কখনোই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে পারবে না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন- উপজেলা নির্বাচনসহ নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ না করা হতাশাজনক। এদেশে মিড নাইট নির্বাচনের প্রধান কারিগর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তিনি মিড নাইট নির্বাচনের যে নজির সৃষ্টি করেছেন, তারপরেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করবে তা তিনি কী করে আশা করতে পারেন!’

এ প্রসঙ্গে রিজভী আরও বলেন, ‘সিইসি পরিচালিত নির্বাচনে একমাত্র শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিষদই উল্লসিত হয়েছেন, দেশ-বিদেশের সবাই ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শুধু হতবাকই হয়নি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে তারা ওই নির্বাচনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন।’

সিইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সিইসি ভোটারদের প্রতারিত করে অভিনব মিড নাইট নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ববাদী একদলীয় রাষ্ট্র কায়েমে সহায়তা করেছেন। যে সিইসি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরে বলেন যে, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ছিল, উপজেলা নির্বাচনও একইভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে।’ তাহলে স্পষ্টতঃই বোঝা যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। এই নির্বাচনও যে আগের রাতেই অনুষ্ঠিত হবে তাতে কারও কোনও সন্দেহ নেই।’

রিজভী বলেন, ‘সমস্ত নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে, ভোটাধিকার কবরস্থ করে সিইসি নিজের বিশ্বাসসযোগ্যতা ধ্বংসের পরেও আত্মপীড়নবোধ না করে অবলীলায় ৩০ ডিসেম্বর মহাভোট ডাকাতিরই নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির ঘোষণা দিলেন উপজেলা নির্বাচনের। কারণ এই সিইসি সরকারকে ভোটারবিহীনভাবে বিজয়ী করতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন চান না।’

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনারা সবাই লক্ষ্য করেছেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ। কোথাও কোন সাড়াশব্দ নেই, মানুষ নীরব ও উৎসাহহীন। সিইসি গণতন্ত্রের কবর দিয়েছেন ২৯ ডিসেম্বর রাতেই। তাই আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, লজ্জা শরমের ধার ধারছেন না তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সঠিক হেদায়েত ও শুভবুদ্ধি থেকে বঞ্চিত একজন ব্যক্তি।’

গতকাল দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিল। মিড নাইট ভোটের সরকারের প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণরূপে গণবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এখন আতঙ্কে ভুগছেন। ভোট ডাকাতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যাতে না ঘটে সেটিকে বন্ধ করার জন্য সরকারি যন্ত্রকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছেন। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বলেই সরকারবিরোধী দলকে কোনও সভা-সমাবেশ করতে নানাভাবে বাধা দিচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ ও ওলামা দলের শাহ মো.মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।