চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯

মাদক কারবারিরা যেখানেই থাকুন খুঁজে বের করবই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৬ ১৬:৫৫:৩৪ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৬ ১৬:৫৫:৪২

আমান উল্লাহ কবির
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিস্তার নেই, নিস্তার নেই। সরকার জিরো টলারেন্সের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে যেন কেউ ঢুকতে না পারে সেজন্য নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। আমরা ২০২১ ও ২০৪১ এর স্বপ্ন দেখছি। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে বিস্ময় হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা থমকে যেতে চাইনা। এই নিষিদ্ধ মাদকে যারা জড়িত রয়েছে তারাও ভুল স্বীকার করে আত্মসমর্পন করুন, ভাল আর খারাপ সিদ্ধান্ত আপনাদেরই। মাদক ব্যবসা ইসলামেও নিষিদ্ধ। মাদক কারবারিরা যেখানেই থাকুন খুঁজে বের করবই। আইনকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে। কয়েকজনের কারনে উন্নয়নের অগ্রগতি থমকে দিতে পারিনা। যেভাবে টেকনাফে ইন্ডাষ্ট্রি হচ্ছে সেখানে ইয়াবার মতো ঘৃন্য কাজে জড়াতে হবেনা। আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিলেও সাংবাদিকদের চোখ থেকে বাঁচা যাবেনা। রোহিঙ্গাদের কারনে দেশীয় শ্রমিকরা কাজ করতে পারছেনা। রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সফরে অং চাং সুকীর সাথে কথা হয়েছে, সেই সাথে ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে।

এই ইয়াবা শুধু টেকনাফেই নই, ইয়াবা না ঢুকছে দেশে এমন কোন জায়গা নেই। তিনি আরো বলেন, সরকারিভাবে যাহা যাহা করা দরকার আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারীদের আইনীভাবে সহয়তা করা হবে। জনগন সঙ্গে থাকলে ইয়াবামুক্ত টেকনাফ করতে পারব।

ইয়াবার প্রবেশদ্বারখ্যাত সীমান্ত নগরী টেকনাফে ইয়াবা কারবারীদের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০২ জন ইয়াবাকারবারি আত্মসমর্পণ করেছেন। এর মধ্যে ২৯ জন ইয়াবা গডফাদারও রয়েছেন। টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে ইয়াবা ও অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকালে তারা ৩ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৩০টি দেশীয় পিস্তল জমা দিয়েছেন। এ সময় আত্মসমর্পকারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

আত্মসমর্পণ করা ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে ২৯ জন ইয়াবা গডফাদারও রয়েছেন। আত্মসমর্পণের পর তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

আত্মসমর্পণের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দুই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা হলেন- টেকনাফ সদরের ইউপি সদস্য বহুল আলোচিত এনামুল হক ও মো. সিরাজ।

প্রতিক্রিয়ায় ইয়াবা কারবারী মোঃ সিরাজ বলেন বলেন- ইয়াবা পুরো দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে দেশের নতুন প্রজন্মর চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অপরাধে আমরা দায়ী। অন্যদিকে ইয়াবা ব্যবসার কারণে টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজার জেলার মানুষ সারাদেশের মানুষের কাছে ছোট হয়ে আছে। যেখানে যাই টেকনাফের মানুষ পরিচয় দিলেও আমাদের ঘৃনা করা হয়। তাই আমি আর জীবনেও ইয়াবা ব্যবসা করবনা।

ইউপি সদস্য বহুল আলোচিত এনামুল হক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা ভাল হতে চাই, আমাদেরকে সুযোগ করে দিন। এটা বড়ই কষ্টের এবং লজ্জার। এসব কিছু বুঝতে পেরে আমরা দেশকে ইয়াবার আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছি। যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেনি তাদেরও আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড সীমান্তে যৌথভাবে কাজ করলে ইয়াবার আগ্রাসন বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে আমাদেরকে ক্ষমা করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আঁকুতি জানাচ্ছি।

এদিকে নাফ নদীতে দিনের বেলায় জেলেদের মাছ শিকারের অনুমতি প্রদান করতে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ শফিক মিয়া, জেলা ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক ইউনুছ বাঙ্গালী স্বরাষ্টমন্ত্রী বরাবর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বৈঠকের মাধ্যমে সীদ্ধান্ত গ্রহন করবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ, কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, আলহাজ আশেকউল্লাহ রফিক, আলহাজ সাইমুম সরওয়ার কমল, শাহীন আক্তার চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান রহমান প্রমুখ।

১০২ জন আত্মসমর্পনকারী ইয়াবা কারবারীরা হচ্ছে সাবরাং ইউনিয়নের মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকাশ দানু মেম্বার, শাহপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম মেম্বার, শামীম, সামশু মেম্বার, সাহেদ রহমান নিপু, সাহেদ কামাল, নুরুল আমিন, আলী আহমদ, মৌলভী বশির, হোসেন আহমদ, শওকত আলম, রাসেল, ডেইল পাড়ার নুরুল আমিন, মুন্ডার ডেইলয়ের মনজুর, আলীর ডেইলের জাফর আহমদ, আবদুল হামিদ, দক্ষিণ নয়াপাড়ার নূর মোহাম্মদ, আলমগীর ফয়সাল, ডেইল পাড়ার মোঃ সাকের মিয়া, নয়াপাড়ার মোঃ তৈয়ব, টেকনাফ পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের আবদু শুক্কুর, আমিনুর রহমান প্রকাশ আবদুল আমিন, দিদার মিয়া, আব্দুল আমিন, নুরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম সফিক, ফয়সাল রহমান, আবদুর রহমান, জিয়াউর রহমান, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর প্রকাশ নুরশাদ, দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার ইমাম হোসেন, বড় হাবিব পাড়ার ছিদ্দিক, পুরনো পল্লান পাড়ার শাহ আলম, অলিয়াবাদের মারুফ বিন খলিল বাবু, মৌলভী পাড়ার একরাম হোসেন, মধ্যম ডেইল পাড়ার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মংমং ছেং প্রকাশ মমচি ও দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার জুবাইর হোসেন, মধ্যম জালিয়া পাড়ার মোজাম্মেল হক, ডেইল পাড়ার আবদুল আমিন, নাজির পাড়ার এনামুল হক মেম্বার, ভুট্টোর ভাগিনা আফসার, আবদুর রহমান, সৈয়দ হোসেন, মোঃ রফিক, মোঃ হেলাল, জামাল হোসেন, মৌলভী পাড়ার মোঃ আলী, নাইটং পাড়ার মোঃ ইউনুস, উত্তর লম্বরীর আবদুল করিম প্রকাশ করিম মাঝি, সদর কচুবনিয়ার বদিউর রহমান, রাজার ছড়ার আবদুল কুদ্দুস, জাহালিয়া পাড়ার মোঃ সিরাজ, নতুন পল্লান পাড়ার মোঃ সেলিম, নাইট্যং পাড়ার মোঃ রহিম উল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মোহাম্মদ আলম, তুলাতলীর নুরুল বশর, হাতিয়ার ঘোনার দিল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হাছন, রাজার ছড়ার হোসেন আলী, উত্তর জালিয়া পাড়ার নুরুল বশর মিজি, আবদুল গনি, জালিয়া পাড়ার মোঃ হাশেম, পুরান পল্লান পাড়ার ইসমাইল, নাইট্যং পাড়ার আইয়ুব, নুর হাবিব, মাঠ পাড়ার কামাল, শীলবনিয়া পাড়ার আইয়ুব, জালিয়া পাড়ার আলম, নুরুল আলম, বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজ পুরার নুরুল আলম, শামলাপুর জুমপাড়ার শফি উল্লাহ, ছৈয়দ আলম, উত্তর শীলখালীর মোঃ আবু ছৈয়দ, হ্নীলা ইউনিয়নের হ্নীলা পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, আলী খালীর জামাল মেম্বার, শাহ আজম, পশ্চিম সিকদার পাড়ার ছৈয়দ আহমদ, রশিদ আহমদ, পশ্চিম লেদার নুরুল কবীর, পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম, জাদিমোরার মোহাম্মদ হাসান আবদুল্লাহ, লেদার ফরিদ আলম, মোঃ হোছন, জহুর আলম, আবু তাহের, বোরহান, হামিদ, রবিউল আলম, আলীখালীর হারুন, হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মাহাবুব, বাজার পাড়ার মোঃ শাহ, পূর্ব পানখালীর নজরুল ইসলাম, পশ্চিম পানখালীর নুরুল আবছার, ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, আলী নেওয়াজ, আবু তৈয়ব ও রমজান প্রমুখ।