চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯

কড়া নিরাপত্তায় শুরু ইজতেমা

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৫ ১১:২৪:৪৯ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৫ ১৪:৪৬:১৬

তাবলিগের দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে সরকারের মধ্যস্থতায় শুরু হয়েছে চার দিনের বিশ্ব ইজতেমা। শুক্রবার টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশাল ময়দানে বাদ ফজর আম বয়ানে শুর হয়েছে ৫৪তম আসর।

পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক শুল আম বয়ান শুরু করেন। বাংলাদেশের মাওলানা নূরুর রহমান তা বাংলায় তরজমা করেন। বাংলা ছাড়াও তাৎক্ষণিকভাবে উর্দু বয়ানটি ২৪টি ভাষায় তরজমা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান।

তিনি জানান, শনিবার মাওলানা জোবায়েরপন্থীরা আখেরি মোনাজাত করবেন। তাদের চলে যাওয়ার পর রোববার থেকে মাওলানা সা’দপন্থীরা ইজতেমার দায়িত্ব নেবেন, সোমবার হবে তাদের আখেরি মোনাজাত।

মাওলানা জোবায়ের ও সা’দের অনুসারিরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় এবার ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তায় আলাদা মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, কয়েকটি স্তরে র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বিভাগের সদ্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, কন্ট্রোলরুম ও ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ময়দানের ভেতরে খিত্তায় খিত্তায় গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার ইজতেমা ময়দানের জুমার নামাজে অংশ নিতে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা আসছেন। এই নামাজে ইমামতি করবেন কাকরালাইল মসজিদের মুরুব্বি মাওলানা মো. জোবায়ের।

ইজতেমার মুরুব্বিরা জানান, ১৯৪৬ সালে প্রথম ইজতেমা হয় কাকরাইল মসজিদে। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্প, ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে ১৯৬৬ সাল থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা।

গত ডিসেম্বরে তাবলিগের দু’পক্ষের মতবিরোধ থেকে তা সংঘর্ষে গড়ায়। এতে নিহতের ঘটনাও ঘটে। এরপর সরকারি মধ্যস্থতায় এবার একই পর্বে দু’পক্ষ দু’দিন করে চার দিন ইজতেমা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। আগে দুটি পর্বে তিন দিন করে হতো ইজতেমা।

৪ মুসল্লির মৃত্যু

বিশ্ব ইজতেমায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

এদের মধ্যে শুক্রবার ভোরে মারা গেছেন ফেনীর সফিকুর রহমান (৫৮)। আর বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় কুষ্টিয়ার মো. সিরাজুল ইসলামের (৬৫)।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নাটোরের মো. আলী (৫৫) এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবদুল জব্বার (৪০) মারা যান।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার মাসলেহাল জামাতের জিম্মাদার জানান, সবাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।