চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ECCE-2019: একটি সফল প্যাকেজ

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১১ ১১:১৫:৫০ || আপডেট: ২০১৯-০২-১১ ১১:১৬:২৫

ফজলুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

কক্সবাজারে সমাপ্ত হলো তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশলবিদদের মিলনমেলাঃ এতে জমা পড়ে দেশের কনফারেন্সের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবন্ধ।

সারাবিশ্বেই বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির জয়জয়কার। বাংলাদেশও এ খাতে বেশ অগ্রসর একটি দেশ। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” নামে যে ভিশন বছর দশেক আগে যাত্রা শুরু করেছিল এখন তা সফল বাস্তবতার নাম। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার চলমান অগ্রযাত্রা সফলে তথ্য-প্রযুক্তিখাতের অবদানকে মোটাদাগে হিসেব করা হচ্ছে। এমন সময়ে গত ৭-৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল(ইসিই) অনুষদ-আয়োজন করে ‘‘ 2nd International Conference on Electrical, Computer and Communication Engineering (ECCE 2019)’’ শীর্ষক আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স।

এই কনফারেন্সে উঠে আসে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবসহ তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল বিষয়ের নানা চিত্র, অগ্রগতি, ভবিষ্যত করণীয় প্রভৃতি।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আশাবাদের সুরে বলা হয়, বিশ্বের বুকে ভবিষ্যতে তথ্য প্রযুক্তি বিকাশের পরবর্তী সফল গন্তব্য হবে বাংলাদেশ।

এই মর্যাদাকর কনফারেন্সের আয়োজন বসে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলে। এর আগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বসে প্রথমবারের আয়োজন। দ্বিতীয়বারের মত আয়োজিত এই কনফারেন্সে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সোমালিয়া থেকে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক, কম্পিউটার সায়েন্স, টেলিকমিউনিকেশন প্রভৃতি বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় একাডেমিশিয়ান, সায়িন্টিস্ট, রিসার্চার, স্কলারস, ডিসিশন মেকার্সগণ অংশ নেন। প্রসঙ্গত: এই কনফারেন্সে ৮১২টি প্রবন্ধ জমা পড়ে। যা দেশের যে কোন কনফারেন্সের জন্য সর্বোচ্চ। এতে রেজিস্ট্রার্ড অংশগ্রহনকারীই ছিলেন ২৭০জন।

কনফারেন্সের শিরোনাম ছিল “2nd International Conference on Electrical, Computer and Communication Engineering (ECCE 2019)”।

কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি বলেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য সরকার যুগান্তকারী নানা উদ্যোগও গ্রহন করেছে। আমরা ইতিমধ্যেই এসব উদ্যোগের সুফলও দেখতে পাচ্ছি। জিডিপি বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আতœপ্রকাশের সম্ভাবনাসহ অনেক বৈশ্বিক সূচকে আমরা এগিয়ে গিয়েছি। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল অর্থনীতির। এমন প্রেক্ষপটে চুয়েটের এই আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য। বর্তমান সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বান্ধব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে নানাভাবে সম্পৃক্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণার প্রবক্তা এবং এটির সফল বাস্তবায়নে নেতত্বপ্রদানকারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান, মাননীয় তথ্য উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় হলেন একজন তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক প্রকৌশলী এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম সফল বাস্তবায়নকারী। ফলে এ খাতের প্রসার বাড়ছে, বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে। এ ধরনের কনফারেন্স কেবল চুয়েট নয়, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ইমেজও বৃদ্ধি করবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়েটের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন,”মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশ হিসেবে আতœপ্রকাশের মিশনে আছে। এখানে প্রকৌশলীদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কনফারেন্স বর্তমান সময়ের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে চুয়েট নানা অগ্রগতি লাভ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চুয়েটে নির্মিত হচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর। এ ধরনের গৌরবময় কনফারেন্স আয়োজন চুয়েটের পাশাপাশি দেশের ইমেজও আরো বৃদ্ধি করতে পারে বলে আমরা আশাবাদী। “

কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিবসের সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এ্যাওয়ার্ড প্রদান। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তবো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি বলেছেন, “তথ্য-প্রযুক্তি শিল্প বিকাশের পরবর্তী গন্তব্য বাংলাদেশ। কারণ আমাদের আছে বিপুল তরুণ শক্তি। আর এই তরুণরা খুব সম্ভাবনাময়ী, পরিশ্রমী। তাদের উদ্ভাবনী শক্তিও অনেক। আমরা মেধাভিত্তিক অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আইসিটিভিত্তিক যে কোন প্রোডাক্ট বা উদ্ভাবনকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে সচেষ্ট। আমরা আইসিটি ইকো-সিস্টেম গড়ে তুলবো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমরা বিশ্বমানের ল্যাব সেটআপ গড়ে তুলবো। বিশ্বমানের ট্যালেন্ট তৈরি করবো। আমরা একটি ‘ভারচুয়াল ইউনিভার্সিটি অব মাল্টিমিডিয়া এন্ড ইনোভেশন’ নামে বিশ্বমানের একটি ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় গড়বো, যার কোন ফিজিক্যাল ক্যাম্পাস থাকবে না, ডিজিটালি সব পরিচালিত হবে এখানে।”

এতে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, “তথ্য-প্রযুক্তিখাতকে বাংলাদেশ সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সফলতার স্টোরিগুলো ক্রমেই বাড়ছে। এসবের পেছনে আইসিটি খাত অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এখন ট্রাফিক জ্যামে বসেই দেশে-বিদেশে যোগাযোগ করা যায়, দাপ্তরিক অনেক কাজ করা যায়। আগামী দিনে এই সাফল্য আরো বিপুল বিস্তৃতি পাবে এ বিশ্বাস এখন সকলের। “

IEEE Bangladesh Section এর চেয়ার অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ বলেন,”চুয়েটের এই সফল আয়োজন আমাদের এখাতে আরো এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাবে। আগামী দিনে বন্ধন আরো মজবুত হবে।”

অনুষ্ঠানে আগত জাপানের সাইতামা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ইয়োশোনারি কুনো বলেন,”আমি কনফারেন্সের সার্বিক বিষয়ে খুব খুশি। আয়োজকদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।এখানে অনেকগুরুত্ববহ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এভাবে আমাদের বিনিময় অব্যাহত রাখতে হবে।” দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. কাংইয়োন জো বলেন, ” এখানে অনেক তরুন প্রতিভাবানদের প্রবন্ধ দেখেছি, যেগুলো সময়োপযোগী। আমরা সব বিষয়ে প্রানবন্ত আলোচনা করেছি। আশাকরি, ভালো আউটপুট আসবে”। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিটিসিএল-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান সান্টু বলেন,”বর্তমান বিশ্বে তথ্য-প্রযুক্তির বিষয়ে বৈপ্লবিক সব কাজ হচ্ছে। কনফারেন্সে এসব বিষয় উঠে এসেছে। এখানে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
কনফারেন্সের অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কোশিক দেব বলেন,”কনফারেন্সে আমরা বিপুল সাড়া পেয়েছি৷ বাংলাদেশের জন্য রেকর্ড সংখ্যক প্রবন্ধ জমা পড়েছে। সকল সেশনে সুন্দর পরিবেশে আলোচনা ও উপস্থাপনা হয়েছে।”

কনফারেন্সের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক বলেন, “এখানে বর্তমান বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি, শিক্ষা, গবেষণার নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে। উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলো IEEE Xplore Disital সংগ্রহশালায় পাওয়া যাবে।”

কনফারেন্সের ৩য় দিন অনুষ্ঠিত হয় কনফারেন্সে আগত অতিথিদের সম্মানে বিশেষ ভ্রমন। এই কনফারেন্সে স্পন্সর হিসেবে ছিল UGC, AKS, DPDC,DESCO,RE,SEPERSIGN CABLES, Synesid IT,BTCL, RPCL। টেকনিক্যাল কো-স্পন্সর: IEEE Bangladesh Section।