চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত উন্মুক্ত করার আহ্বান জাতিসংঘের

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৯ ২০:১০:০৬ || আপডেট: ২০১৯-০২-১০ ১০:৫০:২৮

মিয়ানমারের শিন ও রাখাইন রাজ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার জেরে যেসব মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চাইছে তাদেরকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

শুক্রবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের দক্ষিণ শিন ও রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপারে ইউএনএইচসিআর সচেতন রয়েছে। রাজ্য দু’টিতে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বান্দরবান সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তার খোঁজে মিয়ানমারের অধিবাসীরা নতুন করে আসছে।

মুখপাত্র বলেন, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি এবং সীমান্তের বাইরে নতুন করে শরণার্থীদের ঢলে ইউএনএইচসিআর গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মিয়ানমারের সঙ্ঘাত উপদ্রুত এলাকাগুলো আন্তঃসংস্থা প্রচেষ্টার আওতায় মানবিক সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সহিংসতা থেকে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা মিয়ানমার অধিবাসীদের চাহিদা নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সরকারকে সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সাত লক্ষাধিক উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেয়ার উদারতা দেখানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার খোঁজে আসা মিয়ানমারের অধিবাসীদের আশ্রয় দিতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরু করলে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে আসা বৌদ্ধদের নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মিয়ানমার সংলগ্ন সীমান্ত প্রায় বন্ধ করে দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, আমরা আগেই সীমান্ত খুলে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। এখন অন্যরা তাদের সীমান্ত খুলুক। আমরা সীমান্ত সিল করে দিয়েছি। রাখাইনের আর কোনো অধিবাসী বাংলাদেশে ঢুকতে পারবে না।