চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কর্ণফুলীর পাড়ে দ্বিতীয় দিনেও উচ্ছেদ অভিযান

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৫ ১৭:৪৯:১০ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৫ ১৭:৪৯:১৯

চট্টগ্রাম: কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্বিতীয় দিনে অভিযানে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল সোয়া নয়টায় কর্ণফুলী জেটি থেকে এ অভিযান শুরু হয়।

এর আগে সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সদরঘাট লাইটারেজ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে চার একর ভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। এসব জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে। এর পাশাপাশি পিলার ও সর্তকতামূলক সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়।

দ্বিতীয় দিনের অভিযানের নেতৃত্বে আছেন পতেঙ্গা রেঞ্জের সহকারি ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) ও উচ্ছেদ কার্যক্রমের সমন্বয়ক তাহমিলুর রহমান ও জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুর রহমান।

এ বিষয়ে তাহমিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আজ সকাল থেকে যথারীতি উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত অভিযান চলবে।

উচ্ছেদ কার্যক্রমে নানা ধরনের হুমকি আসার কথা স্বীকার করলেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

কাঁচা-পাকা শত শত অবৈধ স্থাপনা ভাঙার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) বুলডোজার, স্ক্যাভেটর, পে-লোডার, ট্রাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, শতাধিক শ্রমিক উচ্ছেদ অভিযানে কাজ করছে।

২০১০ সালে কর্ণফুলী নদীর গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখল, ভরাট ও নদীতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই কর্ণফুলী নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও ভূমি জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এ লক্ষ্যে গঠিত ১৬ সদস্যের কমিটি ২০১৬ সালের ১৮ জুন আরএস ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর বর্তমান অবস্থান ও দখলদারদের চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করে। এরপর ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট কর্ণফুলী নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরাতে ৯০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে আদেশ প্রদান করেন।

জানা গেছে, অর্থ সঙ্কটসহ নানা জটিলতায় এতদিন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তির পর এ উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

আশার দিক হলো, শুধু জেলা প্রশাসন নয়। অর্থ বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্বয়ং ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।