চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাপ্তাইয়ে ব্রাশফায়ারে নিহত ২: জনসংহতির সংস্কার গ্রুপ ত্যাগে প্রাণ গেল দুজনের

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৪ ২৩:৫৪:৫২ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৫ ১০:৪২:৫৩

প্রতিহিংসার দংশনে ফের রক্তাক্ত হলো সবুজ পাহাড়, ঝরে পড়লো আরও দুটি প্রাণ। কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম এলাকা রাইখালী রাইখালীর কারিগর পাড়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে দু্ইজন নিহত হয়েছেন। মংসানু মারমা (৪৫) ও জাহেদ (২৮) দুজনই একসময় ছিলেন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস/ লারমা) সংস্কারবাদী গ্রুপের সদস্য। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে মংসানু আওয়ামী লীগে এবং জাহেদ ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, এ কারণেই তাদের ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকালে মংসানু মারমা ও জাহিদ কারিগর পাড়ার একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে চা খাচ্ছিল। এ সময় কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই মুখোশ পরিহিত দুর্বৃত্তরা তাদের উপর গুলি বর্ষণ করে। এ সময় নিহত মংসানু মারমা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দৌড়ে পালাতে চাইলে তার উপর আবারও গুলি বর্ষণ করা হয়। দুর্বৃত্তরা প্রায় ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। গুলি শব্দ শুনে স্থানীয়রা হতভম্ব হয়ে যায়। সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ওএলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার ঘটনাস্থলেই মারা যান মংসানু ও জাহেদ ।

খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশের একটি দল লাশ দুটি উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা থানায় নিয়ে আসে। মরদেহের ময়না তদন্তে পাঠানোর প্রস্তুত চলছে।

এ প্রসঙ্গে চন্দ্রঘোনা থানার ওসি আশরাফ উদ্দিন বলেন, কারা কি কারণে এই জোড়া হত্যার ঘটনা ঘটালো তা অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে, আইনের আতায় আনা হবে।

এলাকাবাসী জানায়, জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সংস্কার গ্রুপের কর্মী হিসেবেই মংসিনু মারমা পরিচিত ছিল। সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই জাহেদকে নিয়ে মংসিনু নৌকার পক্ষে প্রচারণা নামে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আগের সংগঠনের কর্মীরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার পর কারিগরপাড়া বাজারের সব কয়টি দোকান বন্ধ রয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।