চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রকৃতিতে ফিরছে কর্ণফুলী!

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৪ ১৩:৪১:২৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ২১:৫৯:৪৮

আখতার হোসাইন

কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচবে। চট্টগ্রামের কথা বললেই বলতে হয় কর্ণফুলী নদীর কথা। চট্টগ্রাম বন্দরের কথা। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বন্দরের ভুমিকা প্রধান্য। কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান। দীর্ঘদিন এই কর্ণফুলী নদী দখল ও দুষণে রৌদ্ররুড়ের অবস্থায় থাকার পর আজ ০৪ ফেব্রুয়ারী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কার্যক্রম শুরু হয়। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলে কর্ণফুলী ফিরে পাবে তার নিজস্ব স্বীকয়তা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য্য। নগরীকে সৌন্দর্য্য বর্ধনে শোভা ছড়াবে এই কর্ণফুলী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান জানান, চাক্তাই থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত কর্ণফুলীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রমকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। মোট ২ হাজার ১৮৭টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং এরপর পর্যায়ক্রমে অপর দু’টি জোনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আবদুর রউফ বলেন, সিএমপির ২০০ পুলিশ অভিযানে অংশ নিচ্ছে। অনেকে নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মুনীর চৌধুরী পতেঙ্গা থেকে সল্টগোলা হয়ে বারিক বিল্ডিং মোড়, মাঝিরঘাট, সদর ঘাট, ইয়াকুব নগর, ফিরিঙ্গি বাজার, চাকতাই, লালদিয়ার চর, কালুরঘাট পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার এলাকায় চার হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিলেন। এতে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তীসহ বন্দরের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ১২৫ একর জমি উদ্ধার করা হয়। ২০০৬ সালে লালদিয়ার চর উচ্ছেদ অভিযানে ১০০ কোটি টাকার জমিও উদ্ধার করেন তিনি।

এদিকে লাল রং এর দাগ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন। এই দাগের ভিতরের সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে দখলদারদের আগেই জানানো হয়েছে। যারা সরিয়ে নেয়নি তাদেরগুলো আজ উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

সরে জমিনে দেখা য়ায়, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময়েও অনেকে নিজেরাই তাদের অবৈধ স্থাপনা গুলো সরিয়ে নিচ্ছে। আবার অনেকে আগেভাগে সরিয়ে নিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন সিটিজি টাইমসকে বলেন, কর্ণফুলী নদীর দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দের অভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে।
গত দু’দিন আগে ভূমিমন্ত্রীর সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সদরঘাটসহ কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। ভূমিমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চলছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।