চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কেউ যেন শপথ গ্রহণ না করে: কর্নেল অলি

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০২ ২১:৩৫:২০ || আপডেট: ২০১৯-০২-০২ ২১:৩৫:৪৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল তথা ঐক্যফ্রন্টে থেকেও অনেকেই সরকারের কাছে থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ।

তিনি বলেছেন, কে কিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আমার কাছে শতভাগ তথ্য আছে।বিএনপি হোক আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হোক কেউ যেন শপথ গ্রহণ না করে। আমরা আশা করবো, ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে যেন বেইমানি করা না হয়।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও এলডিপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ড. কামাল হোসেন বলেছেন ঐক্যফ্রন্টের কেউ শপথ গ্রহণ করবে না। আমরা আশা করবো, যারা যেভাবে হোক নির্বাচিত হয়েছেন। আমাদের কাছে তথ্য আছে, অনেকেই বিরোধী দলে থেকেও সরকারের কাছে থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছে।আমার কাছে ১০০ পার্সেন্ট সত্য তথ্য আছে। ভালো ভালো বক্তব্য রাখেন। ভালো ভালো মিটিং করে ঐক্যজোটের কথা বলেন। কিন্তু তারা, ১০ তারিখের পরে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে বসে নির্বাচনের খরচাপাতি সব গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের আমরা কেউ এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিই নাই।আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি। আমরা এলডিপির পক্ষ থেকেও বলেছি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হোক আর বিএনপি হোক তারা যদি এমপি হওয়ার শপথ গ্রহণ করে তাহলে তারা ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে। ৫০ হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করবে। এছাড়া যারা মৃত্যুবরণ করেছে, জেলে আছে তাদের সঙ্গে বেইমানি করবে। যারা জেলে আছে মামলা হয়েছে শুধুমাত্র আমাদেরকে এমপি করার জন্য জেলে গিয়েছে। সুতরাং তাদের সঙ্গে যেন কখনো বেইমানি করা না হয়।’

এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আগে দিনের বেলাতে ভোট হলেও এখন সেটি পাল্টে গেছে। বিগত কয়েক বছর দিনে হয় ড্রামা। আর রাতের বেলাতেই ভোট হয়ে যায়।

২০ দলীয় জোটের এই শীর্ষস্থানীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের ফলাফলের শিটের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে টাকা জমা দেওয়ার পরও রেজাল্ট শিট দিচ্ছেন না।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার যে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সে বিষয়ে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে তাই নির্বাচন নিয়ে মামলা করে কোনো ফল হবে না। আর করলেও মামলায় তাদের (সরকারের) পক্ষেই রায় দিবে আদালত। এ জন্য মামলা করবে না ২০ দল।

একই সঙ্গে সরকারের উদ্দেশে অলি আহমদ বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য চাইলে রাজনৈতিক বিবেচনায় যে সব বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে এলডিপির সভাপতি বলেন, জামায়াতে ইসলামী যারা করে তারা যদি এ দেশের নাগরিক হয় তা হলে তাদের রাজনীতি করতে দিতে হবে। কারণ সরকার তাদের নিষিদ্ধ করে নাই। সুতরাং তাদের রাজনীতি করতে সুযোগ দিতে হবে।

সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে, সবার সমন্বয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।