চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দলের দুই এমপিকে নিয়ে সংকটে গণফোরাম, বিপাকে ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০১ ০৬:৫১:২৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-০১ ২০:৫৬:০৩

বিবিসি বাংলা: গণফোরাম তাদের নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে নিয়ে কঠিন সমস্যায় পড়েছে। দলের নেতা ড: কামাল হোসেন জানিয়েছেন তার দলের নির্বাচিত দু’জন এমপি হিসাবে শপথ নেবেন না। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক বৈঠকের সময় জোটের মূল শরীক বিএনপিকে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

কিন্তু গণফোরামের সিদ্ধান্ত যেটাই হোক, দলের নির্বাচিত দু’জন এমপির একজন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সংসদে যোগ দেয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তবে মোকাব্বির খান বৃহস্পতিবার রাতে বলেছেন, তিনি দলের অনুরোধে এই মুহূর্তে সংসদে যাবেন না। তবে দলীয় ফোরামে তিনি সংসদে যোগ দেবার পক্ষে তার বক্তব্য তুলে ধরবেন।

আর এ নিয়ে স্পষ্টতই গণফোরাম এবং ঐক্যফ্রন্টের ভেতর সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।

সংসদ বর্জন
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন এবং ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যফ্রন্ট সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুল দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির ছয় জন নির্বাচিত হন। এই জোটের আরেক শরিক ড: কামাল হোসেনের গণফোরাম থেকে এই প্রথম সংসদে দু’জন নির্বাচিত হয়েছেন।

কিন্তু এই দু’জন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার ঘোষণা দেয়ায়, গণফোরামসহ তাদের ঐক্যফ্রন্ট সংকটে পড়ে। গণফোরাম দোটানায় পড়ে যায় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের মুল দল বিএনপি ওই জোটের নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার ব্যাপারে চাপ তৈরি করে।

সেই প্রেক্ষাপটে জোটের স্বার্থের কথা বলে গণফোরাম শপথ না নেয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকেও এই ইস্যুই আলোচনায় প্রাধান্য পায়। বিএনপি সেখানে গণফোরামের অবস্থান জানতে চেয়েছিল।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের বৈঠকে গণফোরামের দু’জনের শপথ না নেয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে যেটা সিদ্ধান্ত হলো যে, কেউ শপথ নেবে না। ড:কামাল হোসেনও খুব স্পষ্ট করেই বললেন যে, ওদের শপথ নেয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের এবং গণফোরামের তরফ থেকে স্পষ্টই বলে দেয়া হয়েছে যে, তারা শপথ নেবেন না। আমরা শক্ত অবস্থানে আছি যে, আমরা শপথ নেবো না। এটাতো আমাদের সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। কারণ নির্বাচনই তো হয়নি।”

বিএনপি নেতাদের অনেকে বলছেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করার পর ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করা হয়েছে। আর সেকারণেই এই সংসদে তাদের নির্বাচিতদের যোগ না দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। সেখানে জোটের শরিক গণফোরামের দু’জন শপথ নিলে, সেটা জোটকে সংকটে ফেলতে পারে।

তবে বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করছেন, জোট ভেঙে গেলে তাদের ওপর সরকারের চাপ বা নির্যাতন আরও বেড়ে যেতে পারে। কারণ দলটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রয়েছে, এই মুহুর্তে আরও খারাপ অবস্থায় তারা যেতে চাইছেন না।

এখন কেন গণফোরামে যোগ দেওয়ার হিড়িক?
অন্যদিকে, গণফোরাম এই জোটের কারণে গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের একটা অবস্থান তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দলটির নেতারা মনে করেন। ফলে দুই দলই ঐক্য ধরে রাখতে চায়। টানাপোড়েন বা সংকট কাটানোর চেষ্টা দুই দলের মধ্যেই রয়েছে। আর সেজন্য দু’জনের শপথ নেয়া ঠেকাতে বিএনপি গণফোরামের ওপর চাপ রাখছে।

গণফোরাম নেতা ড: কামাল হোসেন বলেছেন, তার দল এবং জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ সংসদে গেলে তারা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেছেন,”আমাদের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত যে, আমাদের কেউ শপথ নেবে না। দলের গঠণতন্ত্রে লেখা আছে, কেউ যদি সিদ্ধান্ত লংঘন করে, সেটা তাদেরকে ভুগতে হবে।”

গণফোরামের নেতারা উল্লেখ করেছেন, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে তাকে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে।

নির্বাচিত দুই এমপি যা বলছেন
গণফোরামের দু’জনের মধ্যে একজন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ধানের শীষ এবং মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তারা দু’জনই শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেবার পক্ষে, যদিও মোকাব্বির খান বলেছেন তিনি দলের অনুরোধে এই মুহূর্তে সেটা করবেন না।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলছিলেন, নির্বাচনী এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে তিনি সংসদে যাবেন।

তিনি বলেন. “যে সময়সীমার মধ্যে সংসদে শপথ নেয়ার বিধি আছে, সেই বিধি মেনেই আমি শপথ নেবো এবং সংসদে যাব, জনগণের পক্ষে কথা বলবো। আমরা তো কোনো দল করি নাই। আমি তো আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এবং ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা হিসেবে আমি স্টিয়ারিং কমিটিতে ছিলাম। যেহেতু নির্বাচনে নিবন্ধিত একটি দলের প্রার্থী হতে হবে, সেকারণে বঙ্গবন্ধুর একজন অনুসারী হিসেবে আমি মনে করেছি গণফোরাম আমার চিন্তার কাছাকাছি। সেজন্য গণফোরামের তালিকায় আমি প্রার্থী হয়েছিলাম। আমি তো গণফোরামের কোনো প্রেসিডিয়াম মেম্বার না বা কোনেসা পদে নেই।”

তারা তাদের অবস্থান বার বার তুলে ধরছেন, তারা গণফোরামের কোনো সিদ্ধান্ত আমলে নেবেন বলে মনে হয় না। শেষপর্যন্ত তাদের ঠেকানো যাবে না, সেটা গণফোরামের নেতাদেরও অনেকে মনে করছেন।