চট্টগ্রাম, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

‘সকলের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে সরকার’

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ ৪:৩১ : অপরাহ্ণ

সকলেরই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, জাতি,গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার থাকবে।আমরা সেটাই নিশ্চিত করতে চাই এবং সেটাই আমরা নিশ্চিত করব। এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেদিকে আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান,প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশের সর্বশ্রেণির মানুষের উন্নয়ন আমরা চাই।এখানে বেদে, হিজড়া, চা শ্রমিক, দলিত শ্রেণি- সকলেরই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।অর্থাৎ তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাবলম্বিতা অর্জন করা, সেই সাথে তাদের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো। শিক্ষাদীক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সকল জনগোষ্ঠী যেন সমান সুযোগ পায়, কেউ যেন অবহেলিত না থাকে, কেউ যেন দূরে পড়ে না থাকে- এই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, নিজেকে কিন্তু এটা মনে করলে চলবে না আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা আমরা অবহেলিত। সেটা কেউ ভাবলে চলবে না। সবাইকে ভাবতে হবে এদেশের নাগরিক সবাই এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার। সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সংস্কৃতির বিকাশ, শিক্ষার প্রসারসহ সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ।

শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষা-দীক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য আমাদের সব জনগোষ্ঠী সমান সুযোগ পায়, কেউ যেন অহেলিত না থাকে। কেউ যেন দূরে পড়ে না থাকে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা বিশেষভাবে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। যার ফলে আজ এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান।

বৃত্তিপ্রাপ্ত সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা স্বকীয় পোশাক পরে অনুষ্ঠানে আসায় তাদের প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খুব ভালো লাগলো, প্রত্যেকে তার নিজ নিজ পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে সুন্দরভাবে এসেছে। এটা খুবই সুন্দর লেগেছে। খুবই ভালো লেগেছে।

নিজস্ব ঐতিহ্য চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের প্রয়োজনে মানুষ পোশাক পরবে এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু নিজের সংস্কৃতি, নিজস্ব স্বকীয়তাটা সেটাও মাঝে মাঝে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাতে মানুষ দেখতে পারে, আমাদের বৈচিত্র্যটা কত চমৎকার?

উপস্থিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যার যার পেশা, সেই পেশাটা ছেড়ে দিলে চলবে না। সেই পেশাটাকেও ধরে রাখতে হবে এবং সেটাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই যেন আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে সেদিকে তোমাদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে- সেটাই আমি চাই।

শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশ গড়ায় অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই চাই, শিক্ষা-দীক্ষা নিয়ে সবাই রাষ্ট্র পরিচালনায় আসবে। দেশটা আমাদের, এই কথাটা সবাইকে মনে রেখে যার যার ক্ষেত্রে সবাই কাজ করে যাবে। এখন যারা উপস্থিত, তাদের কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, মেডিকেলে পড়ছে বিভিন্ন সাবজেক্টের উপরে উচ্চতর পড়াশোনা করছে, তারাই একদিন দেশ গড়ার কাজে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার টাকা করে এক কোটি ২৫ লাখ টাকার বৃত্তির চেক দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে ২০০০ জন শিক্ষার্থীকে আরো পাঁচ কোটি টাকা বৃত্তি দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।