চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের সাত ধাপ উন্নতি

প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৮ ১২:৫১:২০ || আপডেট: ২০১৯-০১-২৮ ১৭:৩৮:২৪

বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় বেড়েছে উৎপাদনশীলতা। যার ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বাধীনতার প্রশ্নে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২১তম। ২০১৯ সালের জন্য প্রস্তুত করা সূচকে বাংলাদেশের প্রাপ্ত নম্বর ৫৫.৬। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে সাত ধাপ। নম্বর বেড়েছে বেড়েছে শূন্য দশমিক পাঁচ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের জানিয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর গড় নম্বর (৬০.৬) ও বৈশ্বিক গড় নম্বর (৬০.৮)। যার অর্থ, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা এখনও প্রায় না থাকার সমান (মোস্টলি আনফ্রি)। তবে ব্যবসা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ আগের চেয়ে কিছুটা সরল হয়েছে।বিনিয়োগে আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির প্রণীত ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২১তম। ভারতের অবস্থান ১২৯তম। পাকিস্তানের ১৩১তম। নেপাল আছে ১৩৬তম অবস্থানে। শ্রীলঙ্কার ১১৫তম। চীনের অবস্থান তালিকায় ১০০তম। প্রথম তিনে আছে যথাক্রমে হংকং, সিঙ্গাপুর ও নিউ জিল্যান্ড। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম।

আইনের শাসন বিভাগের সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা শাখায় বাংলাদেশ ৩৬.১, বিচার বিভাগের কার্যকারিতা শাখায় ৩৪.৫ ও সরকারের নিষ্ঠা বিভাগে ২৪.৪ পয়েন্ট পেয়েছে।

এ বিভাগের সবগুলো শাখায় বাংলাদেশ উন্নতি করলেও হেরিটেজ ফাউন্ডেশন লিখেছে, বাংলাদেশে সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত আইনগুলো সেকেলে। ভূমি নিয়ে বিরোধ খুব সাধারণ ঘটনা। বিচার বিভাগ শ্লথ এবং স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। চুক্তি কার্যকর এবং মতবিরোধ নিরসনের প্রক্রিয়া অপর্যাপ্ত। দুর্নীতির মহামারি, অপরাধ প্রবণতা, দুর্বল আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ সরকারের জবাবদিহিতাকে খর্ব করেছে। বড় আকারের দুর্নীতি খুবই সাধারণ ঘটনা। সম্প্রতি এমন দুইটি ঘটনায় নাম জড়িয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রধান বিচারপতির।

সরকারের আকার বিভাগে করের বোঝা শাখায় বাংলাদেশ ৭২.৭, সরকারি ব্যয় শাখায় ৯৪.৫ ও রাজস্ব সক্ষমতা বিভাগে ৭৭.৬ পয়েন্ট পেয়েছে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশন লিখেছে, বাংলাদেশে ব্যক্তিখাতে সর্বোচ্চ কর হার ২৫ শতাংশ এবং কর্পোরেট কর হার ৪৫ শতাংশ। এছাড়াও আছে মূল্য সংযোজন কর। কর থেকে আসা আয়ের প্রমাণ মোট দেশজ আয়ের ৮.৮ শতাংশের সমান। গত তিন বছরে সরকারি ব্যয় বেড়েছে জিডিপির ১৩.৬ শতাংশ। বাজেট ঘাটতির গড় হয়েছে জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে জিডিপির ৩২.৪ শতাংশে।

নীতিনির্ধাণের কার্যকারিতা বিভাগের ব্যাবসার স্বাধীনতা শাখায় বাংলাদেশ ৫০.৯, শ্রমের স্বাধীনতা শাখায় ৬৮.২ মুদ্রানীতি শাখায় ৬৯.৯ পয়েন্ট পেয়েছে।

মুক্ত বাজার বিভাগের বাণিজ্য স্বাধীনতা শাখায় বাংলাদেশ ৬৩.৩, বিনিয়োগ স্বাধীনতা শাখায় ৪৫ এবং আর্থিক স্বাধীনতা শাখায় ৩০ পয়েন্ট পেয়েছে।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ১৯৭৩ সালে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত। হেরিটেজ ফাউন্ডেশন প্রতিবছর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচক প্রকাশ করে থাকে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মাত্রা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, সরকারি আয়-ব্যয়ের পরিমাণ, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নগত দক্ষতা এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যগুলোকে ভিত্তি করে নম্বর হিসেব করা হয়।