চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে অলিখিত পাকিং/টার্মিনাল, ভ্রাম্যমান হকারদের উৎপাত

প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৭ ১২:৫৮:৩৫ || আপডেট: ২০১৯-০১-২৭ ১২:৫৮:৪০

রাজীব চক্রবর্তী

চট্টগ্রামের ভাষায় “অ মরা, ন মরর ক্যা,লড়ি চড়ি মর” অর্থাৎ এমনিতেই প্রাণ যায় যায় অবস্থা,তার উপর শরীর থেকে প্রাণটা টেনে বের করে ফেলা। তেমনই অবস্থা হয়েছে পথচারী ও সাধারণ জনগণের। চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মধ্যে বহদ্দারহাটও একটি।

রয়েছে কাঁচা বাজার বিলাশবহুল মার্কেটসহ ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ,চট্টগ্রামের খুবই ব্যস্ততম সড়ক বলা যায়।কিন্তু সেই বহদ্দারহাট মোড় ও সড়ক দখল করে রাজত্ব করছে টুকটুকি গাড়ী (চট্টগ্রামের ভাষায়) ও ভ্রাম্যমান হকাররা। অলিখিত বাস ও টুকটুকি’র টার্মিনাল তাও আবার পুলিশ বক্সের ঠিক পিছনে।কিন্তু গাড়ীগুলো যাত্রী নেওয়া শুরু করে বহদ্দারহাট এখলাছুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে যা স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।এর সাথে সিএনজি টেক্সি, টেম্পো,সিটিবাস,মাইক্রোবাস তো রয়েছেই।প্রতিদিনই যার বেগ পেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সুস্থ ও নিরাপদভাবে হাঁটাচলার কোন জায়গা নেই। আর এই অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও টার্মিনালের সমস্যাটা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনকার দূর্বিষহ এই জীবনচিত্রের দায়িত্ব কেউ নিতে চায় না।যত্র তত্র গাড়ি পাকিং ও ভ্রাম্যমান হকারের অত্যাচারে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। চারটি রুটের সংযুক্তি এই মোড়। প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ির চলাচল এই রুটগুলোতে। বহদ্দারহাট আরাকান সড়কের একটি লেন ওয়াসার কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে,তাই সব যানবাহনের আসা যাওয়া চলছে অপর একটি লেন দিয়ে।

যার ফলশ্রুতিতে সড়কের বাকি অংশটুকু ও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যেখানে গাড়ি পার্কিং এর জন্য এত বিশাল বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল পড়ে আছে, সেখানে টার্মিনাল ফেলে রাস্তার পাশে পার্কিং! যা জনদুর্ভোগ এর জন্য যথেষ্ট। তবে এই পার্কিং সমস্যা দিনের থেকেও সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধী বেশী চোখে পড়ে। ফ্লাইওভার এলাকার গোল চত্বরটি বহু আগেই ভাসমান হকার,টেম্পো, সিএনজি টেক্সি, বাস, রিক্সা এবং অন্যান্য যানবাহনগুলোর দখলে চলে গেছে। বিশ্বস্থ সুত্রে জানা গেছে,বহদ্দারহাট এলাকাটি ভাসমান হকাররা বহু আগে থেকেই দখল করে ব্যবসা পাতি চালাচ্ছে।

শতশত এসব ভাসমান হকার থেকে স্থানীয় কতিপয় চাঁদাবাজ গ্রুপ নিয়মিত চাঁদা নিয়ে থাকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে এই বিষয়ে আলাপকালে তারা জানান,সবসময় এই মোড়টিতে গাড়ির জটলা লেগে থাকে,বিশেষ করে সিটি বাস ও টুকটুকিগুলো,তার উপর নিত্যনতুন ভ্রাম্যমান হকারের যন্ত্রনা। যার কারণে ক্রেতারা মার্কেটে না এসে ভ্যানগাড়ীর দিকে ছুটছে।এতে মার্কেটগুলো ক্রেতাশূণ্য হয়ে পড়ছে। এটা কি পুলিশ এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসছে না,নাকি তারা দেখেও না দেখার ভান করছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ‘প্রশান্ত কুমার দাশ’ বলেন, যেখানে ৮-১০জন লোকবল প্রয়োজন, সেখানে আমরা ২-৩জন মিলে পুরো বহদ্দারহাট মোড়ে কাজ করছি। পুলিশ বক্সের পাশেই গড়ে উঠা অলিখিত টার্মিনালের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,প্রতিদিনই আমরা তাদের তাড়িয়ে দিই এমনকি মামলাও দিই। তারপরেও তারা পুনরায় ফিরে আসে।এই সমস্যা সমাধানে স্থায়ী কোন পদক্ষেপের ব্যাপারে জানতে চাইলে আশাব্যঞ্জক কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ট্রাফিক উত্তর এর উপ-পুলিশ কমিশনার ‘হারুন-উর-রশীদ হাযারী’ বলেন,বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল আছে কিন্তু কোন টেম্পু/ট্যাক্সি টার্মিনাল নেই,তাই এসব পরিবহনকে আমরা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসতে পারছি না।তাছাড়া তিনি এই অগোছালো গাড়ি পাকিং বন্ধ ও ভ্রাম্যমান হকারদের উচ্ছেদে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যেন নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয় সে কথাও বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান নগর পরিকল্পক ‘এ কে এম রেজাউল করিম’ বলেন,ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি পাকিং করে রাখার ছক করে দেয়া হয়েছিল এবং এতে অনেকাংশে অবৈধ গাড়ি পাকিং ও যানজট কমে এসেছিল।কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো সেই আগের চেহারা পুনরায় ফিরে আসে অদৃশ্য কারণে।

বর্তমানে এই বিষয়টা থেকে উত্তোরণ হতে হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে আলাদা ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ তৈরী করা দরকার এবং চসিক,পুলিশ,সিডিএ,বিআরটিএ ও ট্রাফিক সেক্টরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সমস্যা সমাধানে উদ্যেগ নিয়ে কাজ করতে হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ‘আফিয়া আখতার’ জানান,প্রতিদিনই আমরা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছি।

তারপর ও এই সমস্যার কোন সমাধান পাচ্ছি না।মুল কথা হল, আমরা যদি সচেতন না হই তবে কে আমাদের সচেতন করবে।বুঝতে হবে আমরা যে কাজটা করছি তাতে কোন জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে কিনা।সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের সামনের রাস্তা বিশেষ করে আন্দরকিল্লা মোড়ে অবৈধ পাকিং ও ভ্রাম্যমান হকারদের রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা এ বিষয়টা কিভাবে দেখেন , প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই সমস্যা একদিনের নয়, দীর্ঘদিনের, তবে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব এবং আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

‘সমস্যা আছে তো সমাধান ও আছে’-এই বাণীতে বিশ্বাসী চট্টগ্রাম নগরবাসী।তবে যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চায় চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণ।