চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শ্রমিকরা কীভাবে থাকতো জানতেন না ইটভাটার মালিক!

প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৬ ১০:৩৪:২৭ || আপডেট: ২০১৯-০১-২৬ ১৮:৩৭:১৩

কুমিল্লার সেই ইটভাটাবাড়তি আয়ের আশায় ইটভাটায় কাজ করতে এসে জীবন গেলো ১৩ শ্রমিকের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটা কর্তৃপক্ষে অব্যবস্থাপনা ও মালিকের গাফিলতির কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। গাফিলতির বিষয়টি ইটভাটা মালিকের কথাতেই স্পষ্ট।

কুমিল্লার কে এন্ড কো. ব্রিক ফিল্ডের মালিক হাজী আবদুল রেজ্জাক বলেছেন, ‘ব্রিক ফিল্ডে শ্রমিকের প্রয়োজন হলে আমরা সর্দারের সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাদেরকে শ্রমিক সংগ্রহ করে দেন। কিন্তু তারা কোথায় কীভাবে থাকতো সে বিষয়ে আমি জানি না।’

তবে সর্দার সাদ্দাম হোসেন বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা ইটভাটার কর্তৃপক্ষ করে থাকে। আমরা শ্রমিক হওয়ায় মালিকরা দায়সারাভাবে একটা ব্যবস্থা করে দেন।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার কুমিল্লায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় কে এন্ড কো. ব্রিক ফিল্ডে কয়লার ট্রাক উল্টে ঘুমন্ত ১৩ শ্রমিক নিহত হন।এদের মধ্যে সাতজন একই বাড়ির। নিহত শ্রমিকদের সবার বাড়ি নীলফামারির জলঢাকায়। ইট পোড়ানোর মৌসুমে তারা কাজ করতে এসেছিলেন কুমিল্লায়।

ইটভাটা মালিক বলেন, ‘আমি যতটুকু খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম কয়লাবাহী ট্রাকের চালক ও হেলপারের গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ১৮ শ্রমিক ছোট্ট একটি অস্থায়ী ঘরে থাকতেন। ওই ঘরের দেয়ালের ইটগুলো খুবই নিম্নমানের। সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর খড় বিছিয়ে মাটিতে ঘুমিয়ে থাকতো শ্রমিকদের। এটা শুধু কে এন্ড কো. ব্রিক ফিল্ডের নয়, কুমিল্লা সবগুলো ব্রিক ফিল্ডের একই চিত্র।

স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক জানায়, দুই মাস আগে সর্দার সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে ইট পোড়ানোর কাজ করতে আসেন নিহত শ্রমিকরা। তারা ছয় মাসের জন্য ওই ইটভাটায় কাজ করতে এসেছিলেন। মৌসুম শেষে তারা নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন। একহাজার কাঁচা ইট পোড়ানোর উপযোগী করলে তাদের দেওয়া হতো ১৫০ টাকা।

ওই ইটভাটার শ্রমিক মনির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সারাদিন কাজ করেছেন নিহত শ্রমিকরা। শুক্রবার পুরো সপ্তাহের বেতনের টাকা পেয়ে বাড়িতে পাঠাতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু তা আর হলো না।

মনির আরও বলেন, ‘ঘটনার রাতে আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোরে একটি ট্রাক চট্টগ্রাম থেকে কয়লা নিয়ে আসে। গাড়িটি হেলপার চালাচ্ছিল। ট্রাক থেকে কয়লা আনলোড করার সময় হঠাৎ তা উল্টে ঘরের ওপর পড়ে। এতে চাপা পড়ে ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। ওই রুমে মোট ১৮ শ্রমিক ঘুমিয়েছিলেন।’

কুমিল্লা পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ ও কর্তৃপক্ষের গাফিতলি আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পালাতক থাকা চালক ও হেলপারকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে পুলিশ।’

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাইজার মোহাম্মদ ফারাবিকে। আশাকরি ৭দিনের মধ্যে তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার কারণ জানা যাবে।-বাংলা ট্রিবিউন