চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

রাঙামাটি পাবলিক কলেজ ভবন নির্মাণে দূর্নীতি

প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৪ ১৩:৪৪:৪৮ || আপডেট: ২০১৯-০১-২৪ ১৩:৪৪:৫৪

আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা চেক জালিয়াতির মামলায় চার্জ গঠন

আলমগীর মানিক
রাঙামাটি থেকে

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৮ কোটি টাকার বাস্তবায়নাধীন রাঙামাটি পাবলিক কলেজের ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাংক চেক জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দূর্নীতি দমন কমিশন দূদক কর্তৃক দায়ের করা মামলায় চার্জ গঠন করেছে রাঙামাটির আদালত। এই চেক জালিয়াতির মামলায় যুবলীগ নেতা মুজিবুর রহমান দীপু ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা রুমা বড়ুয়ার বিরুদ্ধে দুদক কর্তৃক দায়ের করা মামলায় আদালত চার্জ গঠনপূর্বক আগামী ২ এপ্রিল মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন আদালত। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই মামলার আইনজীবি জুয়েল দেওয়ান জানান, দুদকের দায়ের করা রাঙামাটির চাঞ্চল্যকর চেক জালিয়াতি মামলায় বিজ্ঞ আদালত চার্জ গঠন করে পরবর্তী ২ এপ্রিল স্বাক্ষী হাজির করে মামলার দিন ধার্য্য করেছেন।

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৮ কোটি টাকার বাস্তবায়নাধীন রাঙামাটি শহরের আসামবস্তির নারিকেল বাগান এলাকায় রাঙামাটি পাবলিক কলেজের ভবন র্নির্মানের জন্য কাজ পান মেসার্স মাইশা ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান দীপু। টেন্ডার আহ্বানকারী প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কাছে মুজিবুর রহমান রূপালী ব্যাংকের তবলছড়ি শাখা থেকে চেক জালিয়াতি করে ৪১ লাখ ২০ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টির সার্টিফিকেট জমা দেন। পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় ওই হিসাব নম্বরে কোন টাকাই জমা নেই। এই ঘটনায় দুদকের কাছে অভিযোগ দায়ের পর দুদকের কর্মকর্তা তদন্ত করে চেক জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পান। এতে দুদকের পক্ষ থেকে মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর ও রুমা বড়ুয়াকে দুই নং আসামী করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করে। ওই ব্যাংকের তবলছড়ি শাখা ভবন থেকে দুদুকের কর্মকর্তারা কোতয়ালী পুলিশের সহায়তায় রুমা বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছিলো। পরবর্তীতে দায়রা জজ আদালতে মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে মুজিবুর রহমান দীপুকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে তিনি পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

এদিকে, বুধবার রাঙামাটি জেলা আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ মোঃ দলীল উদ্দীনের আদালতে চেক জালিয়াতির মামলার প্রাথমিকভাবে মামলার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় দন্ডবিধি অনুযায়ী ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪০৯/১০৯/৪১৭ নং ধারায় এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা মোতাবেক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে অভিযোগপত্রে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার চার্জ গঠন করে এবং পরবর্তী ২ এপ্রিল স্বাক্ষী হাজির করে মামলার দিন ধার্য্য করেন।